শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
হ্যান্ডকাফ পরা আসামি পালাল, উদ্ধার হলো শুধু হ্যান্ডকাফ!

পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আসামির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   24 বার পঠিত

পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আসামির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

পুলিশের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল তাকে। এরপর পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময়ই সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে গেলেন আসামি। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর শুরু হলো পুলিশের অভিযান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হলো আসামি নয়—শুধু পুলিশের হ্যান্ডকাফ!

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরদপী পয়েন্টে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন আসামি হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় কীভাবে পালিয়ে গেলেন? আর পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে শুধু হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার হলো?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম আসির মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি মামলার আসামি।

হ্যান্ডকাফ পরিয়েও কেন আটক রাখা গেল না?

পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই সুযোগ বুঝে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

এখানেই সামনে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একজন হ্যান্ডকাফ পরা আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না? পুলিশের সদস্য সংখ্যা কত ছিল? আসামি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দৌড়ে পালানোর সুযোগ পেলেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

অভিযান চলল, উদ্ধার হলো হ্যান্ডকাফ

আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় সূত্রের দাবি, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে পলাতক আসামির কাছ থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়।

অর্থাৎ, পুলিশের হাতে ফিরে এসেছে তাদের হেফাজতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম—কিন্তু আসামির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠেছে, হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হলো এবং কার মাধ্যমে বা কোথায় গিয়ে এটি উদ্ধার করা হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কেন প্রকাশ করা হয়নি?

আসামি কোথায়?

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখন আসামি আসির মিয়ার অবস্থান।

হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের কথা পুলিশ স্বীকার করলেও আসির মিয়া পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন কি না কিংবা এখনো পলাতক রয়েছেন কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে কোনো আসামি পালিয়ে গেলে তার পুনরায় গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শুধু হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

স্থানীয়দের চোখে ঘটনাটি

দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন বলেন, আসির মিয়াকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে হইচই শুরু হয়। এর মধ্যেই তিনি পুলিশের হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য কী?

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, পুলিশের হেফাজত থেকে একজন আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তদন্তেই মিলবে আসল রহস্য

একজন আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পালিয়ে গেলেন—এটি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে—

১. আসামি পালানোর সময় ঘটনাস্থলে কতজন পুলিশ সদস্য ছিলেন?
২. হ্যান্ডকাফ পরানো থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দৌড়ে পালানোর সুযোগ পেলেন?
৩. পালানোর পর তার সন্ধানে কী ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে?
৪. কার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হলো?
৫. হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হলেও আসামি কোথায়—এ বিষয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট তথ্য কী?
৬. দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ছাড়া মিলবে না।

তবে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটি হলো—পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ আসামি পালিয়ে গেলেন, অথচ শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ফিরল শুধু হ্যান্ডকাফ—আসামি নয় কেন?

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং পলাতক আসামির অবস্থান নিশ্চিত হলেই এ রহস্যের জট খুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com