সোমবার ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

“অভ্যুত্থান পরবর্তী দুর্নীতি ও অপশাসনের নগ্নতার কবলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; নেপথ্যে জাহিদ হোসেন”

অনলাইন ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   2240 বার পঠিত

“অভ্যুত্থান পরবর্তী দুর্নীতি ও অপশাসনের নগ্নতার কবলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; নেপথ্যে জাহিদ হোসেন”

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত ব্যাংক। জুলাই বিপ্লবের পূর্বে এই প্রতিষ্ঠানটি ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী, সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের বলয়ে থেকে পদোন্নতি ও বদলি বানিজ্য, দলীয় বিবেচনায় ও দুর্নীতির মাধ্যমে টেন্ডার প্রদান, ঋণ জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যসহ, ভুয়া ঋন প্রদান করে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করার জন্য এহেন কোন কাজ নাই যে করা হয় নাই। জুলাই বিপ্লবের পর ব্যাংকটির সাধারন কর্মকর্তারা দেশের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত ব্যাংকটিকে তাদের দক্ষতা,মেধা ও শ্রমের দ্বারা ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বাস্তবে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর ঐ একই সিন্ডিকেট কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে ও সুকৌশলে ভোল পাল্টে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে অপব্যবহার করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ফোরাম নামক অস্থিত্ববিহীন সংগঠন (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কর্তৃক যার কোন স্বীকৃতি নাই) এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী মো: জাহিদ হোসেনকে ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই অস্তিত্ববিহীন ফোরামের মূল কাজ বর্তমান সরকার এবং বিশেষভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের মধ্যে অস্থিরতা বজায় রেখে দূর্নীতির মাধ্যমে ব্যাক্তিগত ফায়দা হাসিল করা। নতুনভাবে ডিজাইনকৃত সিন্ডিকেটটি নিজেদের কাজের স্বার্থে আলাদা আলাদা করে টিম গঠন করে নিয়েছে তার একটা রুপরেখা দেয়া হলো।

বদলী বানিজ্য সিন্ডিকেট টিম এর মধ্যে অন্যতম যেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে রয়েছেন, মো: জাহিদ হোসেন ডিজিএম (গডফাদার), এবিএম মুনিবুর রহমান পাভেল, মূখ্য কর্মকর্তা (প্রধান সহযোগী এবং প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এনে বিভিন্ন সময়ে মহড়া প্রদর্শনকারী মুল হোতা), মো: রকিবুল হাসান,সহকারী মহাব্যবস্থাপক( পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী চিন্হিত দোসর), খোকন মিয়া, উর্ধতন মূখ্য কর্মকর্তা (পরিকল্পনাকারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী চিন্হিত দোসর ও বিভিন্ন সময় অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত কর্মকর্তা)। অন্যান্য বিভাগ থেকে রয়েছেন যথাক্রমে নুরে আলম শাওন, উর্ধতন মূখ্য কর্মকর্তা, নিরীক্ষা বিভাগ (প্রধান সমন্বয়কারী ঢাকা অঞ্চল, বনানী কর্পোরেট শাখার দায়িত্বে থাকাকালীন ভুয়া লোনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের নেপথ্য নায়ক), রিয়াজ মাহমুদ, উর্ধতন মূখ্য কর্মকর্তা,স্টাফ অফিসার চেয়ারম্যান মহোদয়ের দপ্তর (প্রধান সমন্বয়কারী বরিশাল বিভাগ, আওয়ামী সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকর্সের চিন্হিত নেতা ও অর্থ কেলেঙ্কারির জন্য বরিশালের ডন নামে খ্যাত), তাসলিমা আক্তার লিনা, উর্ধতন কর্মকর্তা, ভিজিলেন্স স্কোয়াড ( প্রধান মহিলা সমন্বয়কারী, বদলী বানিজ্য টিমের ক্যাশিয়ার মিরাজ হোসেনের সহধর্মিণী) ও মো: আলমগীর হোসেন, মেইনটেন্যান্স ইন্জিনিয়ারি,আইসিটি (প্রধান তথ্য প্রদানকারী)। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মো: মিরাজ হোসেন, অননোমোদিত সিবিএ, সাধারণ সম্পাদক (ক্যাশিয়ার ও সিন্ডিকেট প্রধানের আস্থাভাজন), ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ সিবিএ, অনির্বাচিত সভাপতি (প্রধান তত্তাবধানকারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী )

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য বিকেবি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী নীতিমালা ২০১৮ এর ১৮ ধারায় একই কর্মস্থলে ০৩(তিন) বছরের অধিককাল রাখার বিধান না থাকলেও বর্তমানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রনকারী দপ্তরসমুহের সিংহভাগ কর্মকর্তাই ক্ষেত্রবিশেষে ০৫ (পাঁচ) বছরের অধিক একই বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগীরাই গডফাদার ডিজিএম মো: জাহিদ হোসেনের আর্শীবাদে বহাল তবিয়তে আছেন।

টেন্ডার বানিজ্য সিন্ডিকেট টিমের মধ্যে রয়েছেন যথাক্রমে ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ, অননোমোদিত সিবিএ, সভাপতি (প্রধান তত্তাবধানকারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী) ও মো: মিরাজ হোসেন, অননোমোদিত সিবিএ, সাধারণ সম্পাদক (ক্যাশিয়ার ও মুল সমঝোতাকারী )

উক্ত সিন্ডিকেট ব্যাংকের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আর্থিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ কিছু কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে আসছে। কিছু নিম্নমানের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এখনও বিশেষ সুবিধা প্রদান করে আসছে সিন্ডিকেটটি, প্রতি মাসে গডফাদার ডিজিএম মো: জাহিদ হোসেনের কাছে মোটা অংকের টাকা পৌছানোর শর্তে এ ব্যাপারে এই সিন্ডিকেটের হরিলুটে কেউ কোন প্রকার বাধা দেয় না, যা গডফাদার জাহিদ নিজে তদারকি করেন।

পদোন্নতি বানিজ্য সিন্ডিকেট টিমের মধ্যে রয়েছেন, ডিএমডি-২ খালেদুজ্জামান, (ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু ও বারংবার দূর্নীতির অভিযোগে গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া কর্মকর্তা। উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান), কে.এম. হাবিব উন নবী, উপমহাব্যবস্থাপক, পর্ষদ সচিবালয়, ঘুষ দুর্নীতির কারিগর হিসাবে পরিচিত ছিলেন। টাংগাইল (দঃ) এ মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনকালে একটি শাখাতেই ৩০ (ত্রিশ) কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, উপমহাব্যবস্থাপক,আন্তর্জাতিক বানিজ্য বিভাগ, প্রকা। সিবিএ বি-৯৮৫ এর অবৈধ উপদেষ্টা, সিবিএ কে পদোন্নতির জন্য ঘুষ বানিজ্যের ব্যপারে প্রধান পরামর্শদাতা মাস্টারমাইড এই দূর্নীতিগ্রস্ত নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিগত বছরে এই সিন্ডিকেটের কিছু চিত্র উর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা থেকে সহকারী মহাব্যবস্থাপকের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক হারে জ্যোষ্ঠতা লঙ্ঘনের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় যার সত্যতা মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শেষ সারিতে পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জানা যায়, পদোন্নতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখন পেশাগত দক্ষতা, জ্ঞান এর চাইতে পদোন্নতি প্রত্যাশীর আর্থিক সক্ষমতার মূল্যায়ন করা হয়, আমি পদোন্নতি পেয়েছি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে, এটাই এখন সিষ্টেম। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যোষ্ঠ্যতা তালিকা ৪৬৮২ থেকে ৫০২৭ পর্যন্ত মোট ২৫৬ জনকে বাকী রেখে ৫০২৮ থেকে ৫০৭৯ পর্যন্ত মোট ৩৬ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়, যা ব্যাংকিং সেক্টরে বিরল এবং তা বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকে কর্মরত অসহায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবস্থান সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় সিবিএ নামধারী কতিপয় অবসরভোগী কর্মচারী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে ক্যাডার বাহিনী সময়ে অসময়ে, কারণে অকারণে সাধারণ কর্মকর্তাদের মারধর করে ও অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি ধামকি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
বদলী বানিজ্য নিয়ে ভুক্তভোগীরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সামনে আনেন:
১। বিভাগীয় পর্যায়ে আঞ্চলিক বদলীর ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ হাজার থেকে ১.০০ লক্ষ টাকা নেয়া হচ্ছে।
এবং এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ১.৫০ লক্ষ ২.০০ লক্ষ টাকা নেয়া হচ্ছে।
২। বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের আওয়ামী লীগের সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স,অফিসার ঐক্য পরিষদ এবং আওয়ামী সিবিএর তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের এই অর্থবছরে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার জন্য পদায়ন করা হচ্ছে, যাহা বিগত বছরেও করা হয়েছিলো।
৩। বিগত বছর পদোন্নতি প্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স, অফিসার ঐক্য পরিষদ এবং আওয়ামী সিবিএর তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা অনুসারে দূরবর্তী বিভাগে বদলী করা হলেও, বর্তমানে ২.০০ লক্ষ থেকে ৩.০০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আগের জেলায় ফেরত আনা হয়।
এভাবেই ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী গণমানুষের জীবনমান উন্নয়নের সূতিকাগার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জাহিদ হোসেন গংদের মতো মাফিয়দের হাতে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপরোক্ত সিন্ডিকেটের সকল দুর্নীতি ও অপকর্মের বিষয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবেন মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। অপশাসনের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু ও সুন্দর প্রতিকার চান।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com