



অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | 1384 বার পঠিত

দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার (১৪ জানুয়ারি) প্রথম অফিস করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি।
তীব্র শীতের মধ্যেই সকাল ৯টার আগেই সচিবালয়ে গিয়ে পৌঁছেন তিনি। এসময় তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংশ্লিষ্টরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ৪র্থ মেয়াদে মন্ত্রিসভায় শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রবাস কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
রবিবার প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিদেশে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো এবং রেমিট্যান্সে আনার দিকে নতুন সরকার জোর দেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আনার দিকে এবং কর্মসংস্থানের দিকে দেখব। দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ মানুষ তৈরি করতে চাই আমরা। যারা বিদেশে যেতে চায়, তাদের উপযুক্তভাবে ট্রেনিং দিয়ে পাঠালে আমাদের আরও বেশি ভালো হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, বিদেশে কর্মের জন্য গেছে, তাদের আশ্বস্ত করতে হবে এ দেশ সবার। যারা বিদেশে ব্যবসা করছেন, তাদের ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সবাই যেন বিনিয়োগ করতে পারে। রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স বাড়বে। অটোমেটিকলি বাড়বে। কারণ, আমরা শুধু আনব না, বিদেশে বিক্রিও করব। আমাদের প্রত্যেক সেক্টর মোটামুটি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো আমরা দেখছি, দেখব। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ পাঠ করেন তিনি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা। এর মধ্যদিয়ে দশ বছরের অপেক্ষার অবসান হয় তার।
নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৭৮ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯৭৮ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের সেক্রেটারি, বেথনাল গ্রিন সিটি চ্যালেঞ্জের ডিরেক্টর ও বিভিন্ন সাব কমিটির কো-চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি, প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, লন্ডনে বৈশাখী মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও অন্যতম উদ্যোক্তা ছাড়াও বিভিন্ন ন্যায্য অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন শফিকুর রহমান চৌধুরী।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন অবস্থায় বিলাতের মায়া ত্যাগ করে সিলেটের রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হন ২০০৮ সাল থেকে।
২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।
স্থানীয় রাজনীতিতে অভাবনীয় এই সাফল্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করে সরাসরি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন।
এরপর জাতীয় সংকটকালে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি শফিক চৌধুরী। এই দুই নির্বাচনে আসনটি জোটের অনুকূলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাংসদ না থাকলেও দীর্ঘ ১০ বছর এলাকাছাড়া হননি তিনি। এলাকার জনগণের সুখে-দুঃখে, দুর্যোগকালে বন্ধুর মতো পাশে থেকেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাভাজন হয়ে কাজ করে গেছেন।
দলীয় নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ- সবার জন্য শফিক চৌধুরীর দরজা উন্মুক্ত থাকে। তিনি ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন।
এদিকে, নতুন সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আগামীকাল সোমবার (১৫ জানুয়ারি) প্রথমবার নিজ শহর সিলেটে আসছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী।
ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে সোমবার বিকেল ৪টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. মজির উদ্দিন।

Posted ৫:০৯ পিএম | রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


