



খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 8 বার পঠিত

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণপুর বাজারের রাইস মিল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান রনি ও তাঁর পরিবারের বিরোধের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখলে রয়েছে। সর্বশেষ রেকর্ডেও জমিটি তাদের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জমিটির মালিকানা ও দখলের সমর্থনে তাদের কাছে দীর্ঘদিনের দলিলপত্র ও অন্যান্য নথি রয়েছে এবং প্রায় ১০০ বছর ধরে জমিটি তাদের পরিবারের দখলে রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী জমিতে নির্মাণকাজের প্রস্তুতি নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সেখানে গেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, লিয়াকত আলী জমির মূল কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর সঙ্গে থাকা কিছু কাগজপত্র নিয়ে যায়। একই সময়ে ঘর নির্মাণের জন্য নিয়ে আসা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলীর পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদেরকে জমি থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং সরে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিবারের দাবি, স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তারা আরও বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, দীর্ঘদিনের দখল ও তাদের কাছে থাকা দলিল-দস্তাবেজ থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী পক্ষ জমিটি থেকে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির সরকারি রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই এবং প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি আইনগতভাবে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তবে মোস্তাফিজুর রহমান রনি ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জমিটির প্রকৃত মালিকানা, সর্বশেষ রেকর্ড, দখল এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কিত সরকারি নথিপত্রও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে এই প্রতিবেদনে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জমির রেকর্ড, দলিলপত্র ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বৈধ কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে বিরোধের নিষ্পত্তি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Posted ৭:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


