রবিবার ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

গোয়াইনঘাটে সরকারি রাস্তা দখল করে ছাত্রলীগ নেতার বসতঘর নির্মাণ যাতায়াত ভোগান্তিতে ২৫ টি পরিবার

অনলাইন ডেস্ক   |   বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   345 বার পঠিত

গোয়াইনঘাটে সরকারি রাস্তা দখল করে ছাত্রলীগ নেতার বসতঘর নির্মাণ যাতায়াত ভোগান্তিতে ২৫ টি পরিবার

সিলেটের গোয়াইনঘাটে সরকারি রাস্তা দখল করে বসতঘর,বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন নামে এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। আনোয়ার হোসেন উপজেলার পেকেরখাল গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে এবং তোয়াকুল ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আনোয়ার হোসেন বিগত সরকারের আমলে জোর পূর্বক ১নং খাষ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত গ্রামবাসীর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার উপর বসতঘর, বাথরুম ও টিউবওয়েল নির্মান করেছেন। এছাড়াও একই রাস্তায় আজির উদ্দিন ও আলাউদ্দিন নামে আরোও দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক ভাবে রাস্তার উপর বসতঘর নির্মান করেছেন। এতে পেকেরখাল গ্রামের ২০/২৫ টি পরিবার দীর্ঘদিন থেকে রাস্তা চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, পেকেরখাল গ্রামের ওই রাস্তা উদ্ধারে গ্রামবাসীর পক্ষে দেলোয়ার হোসেন ২০২৩ সালে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের ও করেছেন।আদালতের ওই অভিযোগের প্রেক্ষিত ২০২৫ সালের জানুয়ারী মাসে বিজ্ঞ আদালত নির্মানাধীন বসতঘর, বাথরুম ও টিউবওয়েল উচ্ছেদ করে রাস্তা উদ্ধাররের জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি) গোয়াইনঘাট কে নির্দেশনা দেন।আদলতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার( ভুমি) সার্ভেয়ারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ রাস্তা সার্ভে করে সীমান নির্ধারন ও করেছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান দখলকারীরা প্রসাশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অদ্যবধি পর্যন্ত স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেয়নি।

আদালতের নির্দেশনার কোন সমাধান না পেয়ে দেলোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসক সিলেট বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তদন্ত পূর্বক দ্রুত স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য ইউএনও গোয়াইনঘাট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) গোয়াইনঘাটকে নির্দেশনা দেন।কিন্ত নির্দেশনার ৬ থেকে ৭ মাস অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারনে এ বিষয়ে কোন কাযর্করী কোন প্রদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রকিবের ছেলে সৌদি প্রবাসী আলী হোসেন বাদী হয়ে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য আরেকটি লিখিত আবেদনও করেন।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক থেকে পেকেরখাল গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিকের বাড়ি পর্যন্ত ১নং খাস খতিয়ানের ২০ ফুট প্রসস্ত প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি রাস্তা যায়। প্রতিমধ্যে একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে তোয়াকুল ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন সরকারী রাস্তা উপর বসতঘর, বাথরুম ও টিউবওয়েল স্থাপন করেন। অন্যদিকে রাস্তার শেষ প্রান্তে মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র আজির উদ্দিন ও আলাউদ্দিন আরেকটি বসতঘর নির্মান করেন। এতে পেকেরখাল গ্রামের ২০/২৫ টি পরিবারের প্রায় ২শতাধিক লোকজন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে যাতায়াত করতে বিঘ্ন ঘটেছে, অত্যান্ত কষ্ট করে যাতায়াত করছেন এসব লোকজন।

মঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি বসতঘর, বাথরুম ও টিউবওয়েল নির্মান করেছি,এসিল্যান্ড এসে করে আমাকে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার জন্য বলেছেন, ইউএনও গোয়াইনঘাট আমাকে ডেকে নিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য বলেছেন। কেন উচ্ছেদ করননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন শেষ প্রান্তে আজির উদ্দিন ও আলাউদ্দিন তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করলে আমিও উচ্ছেদ করব। অন্যদিকে আজির উদ্দিন জানান সার্ভে করার সময় আমি উপস্থিত ছিলামনা আমি আপত্তি জানিয়েছি এবং পূর্ণ সার্ভের জন্য এসিল্যান্ড বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়েরও করেছি।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট সহকারী কমিশনার( ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা আছে।বিষয়টি ইউএনও স্যার আগে দেখছেন স্যার এখন অসুস্থ আছেন।স্যার সুস্থ হলেই এ ব্যপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com