



উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | 102 বার পঠিত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এ সময় তারা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এ অভিযানে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মাথায় হেলমেট না থাকায় মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও চালকের জরিমানা করেছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে১১টায় উপজেলার গুনাইগাছ মোড়ে সেনাবাহিনীর ২২ বীর অস্থায়ী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আসাদ এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালে পৌরশহরের গুনাইগাছ মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন ধরনের মটরযান তল্লাশি করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে চেক করছেন। গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ৭টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে চালকদের ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন এ টিম।
রাস্তায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী চেকপোস্ট অভিযান দেখে খুশি স্থানীয় ও পথচারীরা। অভিযান ঘিরে উৎসুক সাধারণ মানুষ জানান, এ ধরনের অভিযান সব সময় হোক। তাহলে অপরাধ কমে আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যত বাড়বে, মানুষ তত শান্তিতে থাকতে পারবে।
মোটরসাইকেলের লাইসেন্স দেখানো নানক কুমার সরকার নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমার মোটরসাইকেলের লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সাথেই ছিলো বিধায় আমার কোন সমস্যা হয়নি। প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র সাথে না থাকলে জরিমানা হত। তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ কমবে এবং সেই সাথে আনফিট মোটরসাইকেল রাস্তায় চলাচল করা কমে আসবে। তবে এরকম সেনাবাহিনীর অভিযান সব সময় থাকা উচিত বলে জানান তিনি।
জেলা ট্রাফিক সার্জেন্ট হানিফ মন্ডল বলেন, সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে আমরা সঙ্গে এসেছি। তারা গাড়ি থামিয়ে যেসব যানবাহন কাগজপত্র, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ট্রাফিক আইনের কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উঠতি বয়সের ছেলেরা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন। এতে অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ সমস্ত ছেলেরা যাতে বেপরোয়া হতে না পারে এবং আনফিট যান রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে দিক লক্ষ্য রেখে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের বিষয়ে ওয়ারেন্ট অফিসার আসাদ বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আমরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানে মূলত ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছি, যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর হয়। এছাড়াও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ অপরাধ তৎপরতা ঠেকাতেও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।

Posted ১১:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


