ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি বলেছেন, বর্তমান সময়ে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর রোবোটিক্স ইউএফটিবিতে প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মেধা বিকাশ, উদ্ভাবনী প্রতিভার বিকাশ এবং রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’।
ইউএফটিবি এর রোবোটিক্স ক্লাবের আয়োজনে আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
উৎসবে সারাদেশ থেকে সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিযোগিতায় মোট ১৬৬টি নিবন্ধিত দল বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
প্রতিযোগিতার ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে—লাইন ফলোয়িং রোবট (LFR), রোবো সকার, টেকাথন, প্রজেক্ট শোকেস এবং বোট রেসিং। লাইন ফলোয়িং রোবট প্রতিযোগিতায় ৩৩টি দল, রোবো সকারে ২০টি দল, টেকাথনে ৩৫টি দল, প্রজেক্ট শোকেসে ৬৫টি দল এবং বোট রেসিংয়ে ১৩টি দল অংশ নেয়।
সকাল ১১ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান, এমপি, সংরক্ষিত নারী আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, এমপি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।
এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি-এর অধ্যাপক ও ইউএফটিবির প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া, ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এইচকিউ) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,এইচ,এম ফখরুল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি বলেন, তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, মেধা ও পরিশ্রমকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব। সরকার তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
মাননীয় মন্ত্রী আরও বলেন, রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভবিষ্যতের শিল্প, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন জড়িত। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএফটিবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী বলেন, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে কাজ করছে। রোবোফিউশন ১.০ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
উৎসবের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অব থিংস অ্যান্ড রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক জনাব আশিকুচ্ছালেহীন বলেন, রোবোফিউশন ১.০-এর মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা নয়; বরং দেশের তরুণ প্রজন্মকে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। আমাদের তরুণদের মধ্যে অসাধারণ মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা রয়েছে। তাদের সেই প্রতিভাকে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আমরা আশা করি, এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরিতে আরও উৎসাহিত হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
দিনব্যাপী উৎসবে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। লাইন ফলোয়িং রোবট প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত ট্র্যাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোবট পরিচালনা, রোবো সকারে রোবটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল, টেকাথনে কোডিং ও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান, প্রজেক্ট শোকেসে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও গবেষণা প্রদর্শন এবং বোট রেসিংয়ে জলপথে রোবোটিক নৌযানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তরুণদের প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা দিতে একটি টেকনিক্যাল প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোবোফিউশন ১.০-এর মূল লক্ষ্য হলো রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও নতুন প্রযুক্তিতে দেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের প্রবলেম-সলভিং দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এর সমাপ্তি ঘটে।