



গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 178 বার পঠিত

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিনের নির্যাতন ও রোষানলের শিকার হচ্ছেন তার প্রতিবেশী কয়েকটি পরিবার এমন অভিযোগ উঠেছে।নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহ বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালানোর একাধিক মামলাও রয়েছে। তবু্ও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে না বলে জানা গেছে।স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা তাকে ইন্ধন ও শেল্টারে এমন হচ্ছে বলে জানা ভুক্তভোগীরা।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহ উদ্দিনের ভাই আলাউদ্দিন তোয়াকুল ইউনিয়নে ইউপি সদস্য হওয়ায় এর প্রভাবে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে।ইপি সদস্য এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ সেই বরাদ্দের কাজ ঠিক মতো না করার ও অভিযোগও রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে সরকারি বরাদ্দে অনিয়ম এর প্রতিবাদ করেন একই গ্রামের যুবক রুবেল মিয়া।এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনসহ দলবল নিয়ে তোয়াকুল বাজারে হামলার শিকার হয় রুবেল। হামলার ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এ ঘটনায় ওই যুবক বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ এখনো ডেভিল মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।বরং স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী বিএনপি নেতার ইন্দন ও শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডেভিল মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই আলাউদ্দিনকে গোপনে শেল্টার দিয়ে আসছেন বিএনপির কিছু পদধারী নেতা। এই বিএনপি নেতাদের মদদে এলাকায় তারা সন্ত্রাসী করে বেড়াচ্ছে। ফলে পুলিশও বিএনপি নেতাদের কথা রাখতে গিয়ে এই ডেভিলদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ,আওয়ামী লীগের বিগত ১৭ বছরের আমলে বর্তমান নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহর কথা মত যারা ছাত্রলীগ করেনি তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হেনস্থার মাধ্যমে জেল খাটানো হয়েছে। ফসলি জমি গবাদিপশু বিক্রি করে এসব মিথ্যা মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এতদিন তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। ভুক্তভোগীরা জানান,দেশের পট পরিবর্তন হলেও মিসবাহ ও তার ভাই বর্তমানে ও দাপট খাটিয়ে সমাজের নিরিহ মানুষদের নির্যাতন করে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে ছাত্রলীগ করার সুবাদে ও সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদের দাপট খাটিয়ে তেয়াকুল ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদের চাকুরী বাগিয়ে নেয় সে।পরিক্ষায় তার সাথে যারা ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তার জানান এখানে মেধাবীদের মূল্যায়ন হয় নাই। আওয়ামী লীগ দলের ও মন্ত্রী ইমরানের মূল্যায়ন হয়েছে।ইউনিয়ন পরিদর্শকের চাকুরি পাওয়ার পর থেকেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে তার মন মর্জি মতো আসা-যাওয়া করেন।এতে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও জানান সেবা গ্রহীতারা।
এ ব্যাপারে মিসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাই তিন তিনবারের মেম্বার। এই কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ অপপ্রচার করা হচ্ছে।চাকুরীর ব্যাপারে তিনি বলেন মন্ত্রী ইমরানের কোন সুপারিশ আমি নেইনি।আমার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পেয়েছি।
জানতে চাইলে তোয়াকুল ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, পূর্বের একটি মারামারির ঘটনায় আমাকে চক্রান্ত করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে পিআইও কাজ পরিদর্শন করে বিল প্রদান করেন। এখানে অনিয়ম করার সুযোগ নাই।
কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার বলেন, এই কাজে কোন অনিয়ম নেই। মেম্বার সাহেব কাজ সঠিকভাবেই করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই দিদারুল আলম জানান, মামলার ৭ আসামির মধ্যে ৫ জন জামিনে আছে।মিসবাহ ও তার ভাই দুই জনই পলাতক রয়েছে ।পলাতক দুই ভাইকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।শীগ্রই আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে।

Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


