



অনলাইন ডেস্ক | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 87 বার পঠিত

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, “একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আপনি যে কোনো সংসদীয় আসনে প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু প্রার্থী সেজে যদি দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করা হয়, সেটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দল যদি মনে করে আপনাকে মনোনয়ন দেবে, তখন সবাই একযোগে কাজ করব। তবে এমপি প্রার্থীতার নামে হঠাৎ করে নোংরা গ্রুপিং শুরু হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনা।”
গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রয়েল রিজেন্সীর বিশাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেট-৩ আসনের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতাদের মধ্যে ছিলেন জননেতা এম ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালে তাঁকে গুম করে ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু নেতাকর্মীরা দমে যায়নি; বরং আরও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে রাজপথে ফয়সালার অপেক্ষায় থেকেছে। ফ্যাসিস্টদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত করেছেন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আন্দোলনের পথে আমরা অনেক সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি, অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেতার নির্দেশে আমরা সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, প্রবাসীদের সহযোগিতাও পেয়েছি। রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে বড় গণসমাবেশ আমরা সিলেটে সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।
তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের উদীয়মান নেতা আফম কামালকে হত্যা করে আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি সিলেট বিভাগের আন্দোলন সমন্বয়কারী সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ডামি নির্বাচন প্রতিহত করে জনমানবশূন্য ভোটকেন্দ্র উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। এ ক্ষেত্রে সিলেটবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিল। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট এক দফার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের দায়িত্বও তিনি সিলেটে পালন করেন। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালায়, বাংলাদেশ মুক্ত হয়। বিএনপি ও ছাত্রজনতার আত্মাহুতি ও পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকামী জনগণ নতুন বাংলাদেশ অর্জন করে।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “এখন নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সারাদেশ অপেক্ষারত।”
সভায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সিলেটবাসী, বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের কমিউনিটি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসী নেতারা বলেন, প্রবাসী সিলেটবাসীর ঐক্য ও সক্রিয় ভূমিকা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ধরনের মতবিনিময় সভা নেতৃত্ব ও প্রবাসীদের মধ্যে যোগসূত্র আরও মজবুত করবে।

Posted ১০:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


