



শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি | শুক্রবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 115 বার পঠিত

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভয়ঙ্কর ডাকাতি করেছে একদল ডাকাত! ভোর রাতে প্রহরীকে তার লুঙ্গি দিয়ে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ডাকাতি করেছে ডাকাত দল। এসময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে ৪টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মুদির দোকানে ডাকাতি করেছে তারা। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও পয়েন্ট থেকে তিনটি ও বীরগাঁও এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে যায় ডাকাতেরা। মুদির দোকানটিও একই পয়েন্টের। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ভয়-আতঙ্কে এলাকার ব্যবসায়ী-পরিবহণ শ্রমিক ও জনসাধারণ।
সিএনজি অটো রিকশার মালিকেরা হলেন- উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মৃত আলীম উদ্দিনের ছেলে ফরিদ আহমদ (সুনামগঞ্জ থ ১১-৩৯০২), একই গ্রামের হানিফ উল্লার আবদুল খালিক (সুনামগঞ্জ থ ১১-৩১৮৮), পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে রুহুল আমীনের গাড়ি (সুনামগঞ্জ থ ১১-৪৪২), পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন থেকেও একটি সিএনজি (সুনামগঞ্জ থ ১১-১৪৮২) নিয়েছে ডাকাতেরা। মুদির দোকানের মালিক ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আল আমীন।
পশ্চিমপাড়া ব্রাহ্মণগাঁও পয়েন্টের নৈশ প্রহরী আফতর আলী জানান, তাদের আচরণ দেখে মনে করেছি, ডাকাতেরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি প্রায় দুই ঘন্টা এভাবে বাঁধা ছিলাম। গলার মাঝে চুরি ধরে চেঁচামেছি করতে নিষেধ করে। আমি তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা আমার পরনের লুঙ্গি খোলে আমার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে অনেক দূরে একটি ট্রাকের নিচে ফেলে রাখে। পরে তারা কী করেছে বা কি নিয়েছে আমি আর বলতে পারিনি। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তাঁর দায়িত্বরত এলাকার পয়েন্টে বসে মোবাইল ফোনে ওয়াজ শোনছিলেন তিনি। হঠাৎ করে রথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চারজন যুবক এসে তাঁকে অতর্কিত আক্রমণ করে বসে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতও ব্রাহ্মণগাঁও পয়েন্টের দু’টি গ্যারেজে তিনটি সিএনজি রেখেছিলেন চালকেরা। এখান থেকে তিনটি সিএনটি চালিত অটোরিকশা নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এসময় আল-আমীনের মুদির দোকন থেকেও নগদ টাকা, সিগারেটের কার্টুন ও বিস্কুট মাল নিয়ে যায় তারা। এদিকে, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন থেকেও একটি সিএনজি নিয়ে যায় ডাকাতেরা।
ফরিদ আহমদের বিধবা মা দয়া বেগম বলেন, কিস্তির মাধ্যমে ছেলেকে সিএনজিটি কিনে দিয়েছিলাম। এখনো অর্ধেক কিস্তিও পরিশোধ করতে পারিনি। আমার সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম ছিলো এই সিএনজির আয় উপার্জন। এখন আমাকে পথে বসতে হবে। কীভাবে কিস্তি চালাবো, কীভাবে সংসার আর ছেলে মেয়েদের নিয়ে বেঁচে থাকবো তা ভেবেই কুলকিনারা পাচ্ছি না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের শান্ত¡না দিয়েছি। নৈশ প্রহরীকে দেখেছি। প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, ডাকাতদের দ্রত খুঁজে বের করে গরীব লোকগুলোর সিএনজি যেনো উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যক্তি সজীব আহমদ, শুকুর আলী ও পরিবহণ শ্রমিক গফুর আলীসহ এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, পরিবহণ শ্রমিকরা পয়েন্টে গাড়ি রেখে এতাদিন রাতে নির্বিঘেœ বাড়িতে ঘুমিয়েছে। এখন উদ্বেগ বেড়ে গেলো। পাশাপাশি এই ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ীরাও সব সময় আশঙ্কায় থাকবেন। রাতবিরাতে সাধারণ মানুষজনও রাস্তায় চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন। এই পরিস্থিতি থেকে আমরা দ্রæত উত্তরণ চাই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম আলী বলেন, আমাদের কাছে এখনো এই বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেন নি। তবে সোর্স মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা আমাদের ফোর্স পাঠিয়েছি। খবর নিয়েছি। তারা যদি আমাদের অ্িযভযোগ করেন তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Posted ১১:০৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


