মঙ্গলবার ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বিশ্বনাথে স্ত্রীর জানাজার নামাজের দোয়ার সময় মারা গেলে স্বামী

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি   |   রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   109 বার পঠিত

বিশ্বনাথে স্ত্রীর জানাজার নামাজের দোয়ার সময় মারা গেলে স্বামী

সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর জানাজা নামাজের দোয়ার সময় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পৌর শহরের ইলামেরগাঁও-আটঘর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত দম্পতি হলেন- পৌর শহরের ইলামেরগাঁও-আটঘর গ্রামের হাজী জমসিদ আলী (১০৫) এবং তার স্ত্রী হাওয়ারুন নেছা (৮০)।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলছেন, ‘একই সঙ্গে পরপারে পাড়ি দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে থাকা ভালাবাসার চিরন্তন বন্ধনের ঘটনাটি যুগ যুগ ধরে আরও অনেকের কাছে একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি অনেক কষ্টদায়ক।’

স্বজনরা জানিয়েছেন, ‘গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মৃত্যুবরণ করেন হাজী জমসিদ আলীর স্ত্রী হাওয়ারুন নেছা (৮০)। আর রবিবার সকাল ১১টায় মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করেন পরিবার ও এলাকাবাসী। স্ত্রীর জানাজার নামাজের ঘণ্টাখানেক পূর্বে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজী জমসিদ আলী। তিনি অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে হাওয়ারুন নেছার জানাজার নামাজের পূর্বেই তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর শোক যেনোও তিনি সইতে পারেননি। তাই এক সঙ্গে চলে গেছেন। এই দম্পত্তি ছয় ছেলে-দুইকন্যা, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্নীয়-স্বজন রেখে গেছেন।’

হাজী জমসিদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের আম্মার (মাতা) মৃত্যুর পর রবিবার সকাল ১১টায় জানাজার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর কিছু সময় আগে হঠাৎ আব্বা (পিতা) অসুস্থ হয়ে পড়লে; আমরা চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার দেখে আব্বাকে দুটি টেস্ট করানো কথা বলেন; তখন আমরা আব্বার অবস্থার কিছুটা ভালো দেখে বাড়িতে নিয়ে আসি। মনে করেছিলাম আম্মার জানাজার নামাজের পর টেস্ট করাবো। বাড়িতে আসার পর আম্মার জানাজার নামাজের দোয়ার সময় আব্বাও মারা যান। এক সঙ্গে আব্বা-আম্মার মৃত্যু আমাদের কাছে অনেক কষ্টদায়ক। পরে বাদ আসর আব্বার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।’

যুবক শাহ সানুর বলেন, ‘আমার ফুফা-ফুফি সবসময় এক সঙ্গে চলাচল করতেন। ফুফার চোখে সমস্যার থাকার কারণে কোথাও গেলে হাতে ধরে চলাচল করতেন। তারা এক সঙ্গে চলেও গেলেন। ফুফা অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর পর তিনি আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। আমাদের কথা বলা দেখে ভালো মনে হয়েছে ফুফার অবস্থা।’

 

Facebook Comments Box

Posted ১০:১৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com