



রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 18 বার পঠিত

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নতুন পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর কেনাকাটার ধুম পড়েছে। তুলনামূলক কম দামে পছন্দের পণ্য পাওয়ার আশায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে জগন্নাথপুর বাজার। এরই মধ্যে বেতন পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। আর এর প্রভাব যে ঈদের বাজারে পড়েছে তা বলাই বাহুল্য। রমজানের মধ্যভাগ থেকেই জগন্নাথপুরের ফুটপাত যেন রঙিন এক মেলায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ওপর সারি সারি জুতার দোকান, ভ্যানে সাজানো শার্ট-প্যান্ট, শিশুদের ফ্রক, থ্রিপিস, টি শার্ট- সবকিছুতেই ঈদের ছোঁয়া। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো জায়গা নেই। ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগোতে হয়। কেউ দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের কাপড় হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেলাই। বড় বড় শপিং মলের তুলনায় এখানে ভিড় যেন আরও বেশি। কারণ একটাই- দাম তুলনামূলক কম আর দরদামের সুযোগ আছে।
জগন্নাথপুর বাজারের মিলেনিয়াম ট্রেড সেন্টারের আমায়রা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. আতাউর রহমান বলেন, নারী ও শিশুদের নতুন পোশাক গারারা, সারারা, পুরুষদের পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট, জোব্বাসহ নতুন ফ্যাশনের অনেক পোশাক এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের জন্য টি শার্ট, জিন্স ও পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে এখনই বেশি দাম রাখছে। তবে এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।
মিলেনিয়াম ট্রেড সেন্টারের তুর্জো গ্যালারি রিচমুন গ্রুপ কোম্পানির স্বত্বাধিকারী এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর বলেন, ঈদের বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতারা যেন নিশ্চিন্তে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন, এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। আমরা পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত, সহজ ও দ্রুত ডেলিভারি এবং নিরাপদ লেনদেনের মাধ্যমে বিশ্বস্ত শপিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রদান করি।
নদীর পাড় রোডের পলাশ সুজ এর স্বত্বাধিকারী প্রমোদ নাথ বলেন, আমাদের দোকানে চামড়া, বার্মিজ, থাই, চায়না, বাবর, বাটা, প্লাস্টিক, চপ্পলসহ সব ধরনের জুতা সুলভ মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। আমরা এখন প্রচুর বিক্রি করছি, ভালো ব্যবসা হচ্ছে। আমরা যুক্তিসঙ্গত লাভ নিয়ে জুতা বিক্রি করি। সেজন্য আমাদের এখানে কেবল নিম্নবিত্তরা নন, অনেক মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও জুতা কিনতে আসেন।
জগন্নাথপুর বাজারে রাস্তার একপাশে কাগজে মোড়ানো ছোট্ট একটি দোকানে নতুন কাপড় তুলেছেন মোহাম্মদ রাসেল মিয়া। মাথার উপরে অস্থায়ী ছাউনি, সামনে সাজানো বিভিন্ন রঙের শার্ট ও পাঞ্জাবি। তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাক তুলেছি। রমজানের শেষ সপ্তাহ চলছে, তাই মানুষজনও বেশি আসছে। বিক্রি ভালো হচ্ছে।
সৈয়দপুর বাজারের রাদিস শপিং কমপ্লেক্সের মেসার্স ফাহিম সু স্টোর ও মেসার্স ফাহিম কসমেটিকস এর স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের দোকানে সারি সারি সাজানো আছে স্যান্ডেল, স্নিকার্স, লোফার ইত্যাদি। অধিকাংশ জুতাই ঈদ কালেকশন। বিক্রয় ভালোই হচ্ছে।
কলেজ ও মাদ্রাসাপড়-য়া শিক্ষার্থী নুসরাত, নিরজুনা ও শাম্মী বলেন, অনেক ঘোরাঘুরির পর যেখানে কাপড় পছন্দ হয়, সেখানে দাম বেশি। আবার যেখানে কাক্সিক্ষত দামে পণ্য মেলে, সেখানে রঙ বা কাপড় ভালো লাগে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আতাউর রহমান বলেন, আমার আয় সীমিত। দিনে উপার্জন করি হাজার-পনেরশ টাকা। তাই কম দামের দোকান থেকে ছেলে-মেয়েদের জন্য জামা-কাপড় কিনেছি। বড় দোকানে গেলে দাম বেশি।
বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ হাজার টাকায়। মাঝামাঝি দামের কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। এ ছাড়া পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের ফ্রক, পাঞ্জাবি, পায়জামা সেট ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
সৈয়দপুর বাজারের দুই ভাই হেয়ার ড্রেসারের স্বত্বাধিকারী রিপন দাস ও রুপন দাস বলেন, ঈদে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে ছেলেদের চুলের স্টাইলের। ট্রেন্ডকে অনুসরণ করে ঈদের অগেই ছেলেরা তাদের চুলের স্টাইল করে থাকেন। তরুণরা এই সময়ে নতুন নতুন চুলের স্টাইল ট্রাই করছে। দিন দিন ছেলেদের চুলের কাটিং কম বেশি পরিবর্তন এসেছে। এ বছর চুলের স্টাইলের ট্রেন্ডটা অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন।
জগন্নাথপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাজনা বেগম বলেন, সন্তানদের জন্য মার্কেটের ভেতর থেকে কেনাকাটা করলেও নিজেদের জন্য আমরা ফুটপাতের দোকানে পণ্য খুঁজছি। প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সাধ্যের মধ্যে ফুটপাত থেকেই কেনার চেষ্টা করছি।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশাহিদ মিয়া ভূঁইয়া বলেন, এবার পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম নাগালের মধ্যেই আছে। গতবার পোশাকের দাম ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবার বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শপিংমল ও বাজারগুলোতে ভিড় সামলাতে এবং চুরি-ছিনতাই রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেনাকাটার সুবিধার্থে বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।

Posted ৮:১২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


