শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বৈধ কাজে মা-বাবার অবাধ্যতার হুকুম

মাওলানা মুফতি মো. আবু সাঈদ সৈয়দ   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   25 বার পঠিত

বৈধ কাজে মা-বাবার অবাধ্যতার হুকুম

মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করা, ভালবাসা, তাঁদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা, কথা শোনা, গুরুত্ব দেওয়া, বাধ্য হওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব এবং তাঁদের অবহেলা করা, নাফরমানি করা হারাম। তবে বাবা-মা যদি অনৈতিক কাজে কিংবা অবৈধ কাজে জোর করে তাহলে বাধ্য হওয়া যাবে না। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

যদি তাঁরা (পিতামাতা) তোমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে আমার সাথে কাউকে শরীক করার জন্য যা (শিরক) তোমার বোধগম্য নয়, তাহলে তুমি তাঁদের কথা অমান্য করো, (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না) আর পার্থিব জীবনে উৎকৃষ্ট পন্থায় তাঁদের সাথে সৎ সম্পর্ক বজায় রেখো। আর তুমি তাঁদের পথ অনুসরণ করো যারা (আমি এক) আমার প্রতি অবিচলভাবে আকৃষ্ট রয়েছে।’ (সূরা লুকমান ১৫)

বাবা-মায়ের আনুগত্যের সীমারেখা সংক্ষেপে এভাবে নির্ণয় করতে পারি–
১. তাঁদের বাধ্য থাকার বিষয়টি কেবল বৈধ কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং যদি তাঁরা ফরযে আইন, ওয়াজিব কিংবা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বর্জন করতে বলেন অথবা যদি তাঁরা কোনো হারাম কাজ করতে বলেন তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁদের আনুগত্য করা জায়েয হবে না।
২. যদি তাঁরা নফল-মুস্তাহাব পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন তাহলে তাঁদের এই নির্দেশ মানা যাবে না। কেননা, এর মাধ্যমে তাঁদের ইসলামের প্রতি অবহেলা প্রকাশ পায় এবং এই নির্দেশের মান্য করার মাঝে তাঁদের কোনো উপকার নিহিত নেই।
৩. যদি তাঁরা নফল-মুস্তাহাব পুরোপুরি নয় বরং বিশেষ কোনো যৌক্তিক কারণে নির্দিষ্ট কোনো নফল-মুস্তাহাব ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন তাহলে এক্ষেত্রে তাঁদের হুকুম মানা ওয়াজিব। যেমন, সন্তানের শরীর দুর্বল তাই তাকে নফল রোজা না রাখার নির্দেশ দিলেন কিংবা বাবা বা মায়ের কোনো প্রয়োজনে সন্তানকে নফল আমল ছেড়ে দিয়ে ওই কাজটি করে দিতে বললেন– তাহলে এই হুকুম মানা সন্তানের উপর ওয়াজিব।
৪. তাঁদের হুকুমকৃত কাজটি তাঁদের জন্য উপকারী হতে হবে। সুতরাং যদি তা তাঁদের জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে ওই হুকুম মান্য করা যাবে না।
৫. বাবা-মা যদি এমন কাজ করতে বলেন যা সন্তানের পক্ষে অসম্ভব কিংবা সম্ভব তবে জীবনের ঝুঁকি আছে তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি বাধ্য থাকা জরুরি নয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, لا ضرر ولا ضرار ক্ষতি ও ক্ষতি সাধনের কোন অনুমতি নেই। (সুনানে দারাকুতনী ৩০৭৯)
৬. উক্ত ক্ষেত্রসমূহে তাঁদের আনুগত্য না করা মানে তাঁদের সঙ্গে অসদাচারণ করা নয়। কেননা, উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, পিতামাতার সেবা ও সদ্ব্যবহারের জন্য তাঁদের মুসলমানও হওয়া জরুরী নয়।

মোটকথা বাবা-মা’র কথা শোনা আপনার জন্য তখনই বাধ্যতামূলক হবে, যখন তারা বৈধ কিছু করতে বলবেন। যেটা তাদের কল্যাণের জন্য জরুরি। এবং যেটা আপনার করার সামর্থ্য আছে। অযথা আপনার ওপর কোনো বোঝা চাপাবে না যেটা। এটা একেক লোকের বেলায় একেকরকম হবে। এটা বুঝতে নিজের বিচার-বিবেচনা খাটাতে হবে।
বাবা-মা যদি এমন কিছু করতে বলে যেটায় সন্তানের ফায়দা নেই, কিংবা অন্যায় আবদার করলেন (যেমন বললেন যে বেতনের পুরোটা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে, অথচ সন্তান নিজে ঠিকমতো চলতে পারছে না), তখন কিন্তু বাবা-মা’র এধরনের কথা শুনতে আপনি বাধ্য নন। তবে তাই বলে বাবা-মা এমন কথা বললে আপনি অভদ্র হতে পারবেন না। ভদ্রভাবে তাদের সুন্দর কথা বলে তাদের কথা ফিরিয়ে দিতে হবে।

والله اعلم بالصواب

লেখক : সুপার, হাতিয়া, নাচনী, বেতাউকা পীর আকিল শাহ নেছারিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা, দিরাই, সুনামগঞ্জ।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গরিবের হক যাকাত
(1019 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com