



অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 11 বার পঠিত

সিলেট: শিগগিরই বেশ কিছু দেশে শ্রমবাজার খুলবে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এখন থেকে তরুন-যুবকদের কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে প্রতিযোগীতায় আমরা পিছিয়ে না পড়ি এবং বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারি।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ সুবিধায় ইতোমধ্যেই বিমানবন্দর এলাকা চিকিৎসা সেবা চালু করেছি। ভিভিআইপি সেকশনের পাশে একটি বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ইমার্জেন্সি কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারেন। এছাড়া প্রবাস থেকে কোনো মরদেহ আসলে তা পরিবহনের জন্য একটি ফ্রিজার ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত ডাক্তার বা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা যায়।
বুধবার (০১ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যাঁরা রেমিট্যান্স পাঠান, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার জন্য ভিআইপি লাউঞ্জের উপরে একটি আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই লাউঞ্জের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। যেখানে বাচ্চাসহ প্রায় ৪০ জন বসতে পারবেন। এছাড়া একটি আধুনিক ওয়্যার হাউসের কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোম্পানীগঞ্জ, সালুটিকর, গোয়াইনঘাট, হাদারপার—এসব এলাকায় যাতায়াতের জন্য ৫টি বড় ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই এগুলোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে বলে আশা করছি।
সিলেটের গোয়াইনঘাট পর্যন্ত রেলযোগাযোগ চালু করা হবে। এ নিয়ে রেলওয়ে সচিব ও ডিজির সাথে কথা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সার্ভেয়ার সংকট ছিল। আমি ভূমিমন্ত্রীর সাথে কথা বলে ৬ জন অতিরিক্ত সার্ভেয়ার নিয়োগ দিয়েছি, যাতে জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং কাজে কোনো ধীরগতি না থাকে। পাশাপাশি, জৈন্তা কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল এবং মাটি ভরাটের কাজও শেষের দিকে।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাজও অনেকদিন ধরে আটকে ছিল, ইনশাআল্লাহ সেটিও দ্রুত চালু হবে। সিলেটে একটি ভালো হাসপাতাল নির্মাণ এবং পর্যটন নগরী হিসেবে এর ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি আশাবাদী যে, বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে এই কাজগুলো দ্রুতই শুরু হবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব এই ফল উৎসবের আয়োজন করেছে। আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল পাঠানোর যে ঐতিহ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই ভুলে যাওয়ার পথে। লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফলের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এই ঐতিহ্যবাহী ফলগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে এবং বেশি করে ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফল উৎপাদন ও বিপণনের জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ফল উৎসবের উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ পরিবর্তন, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে, আর বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।’
এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশীয় মৌসুমি ফলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং অতিথিরা ফল উৎসবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশীয় মৌসুমি ফল শুধু পুষ্টির চাহিদা পূরণই করে না, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোগ বাড়াতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে দেশীয় ফলের বিকল্প নেই। তিনি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের পাশাপাশি দেশীয় ফলের প্রচার ও প্রসারে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
‘সিলেটকে পরিচ্ছন্ন, আবর্জনামুক্ত, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা, পরামর্শ এবং গঠনমূলক সমালোচনা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কাজে কোথাও ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকলে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলভাবে তা তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। গঠনমূলক সমালোচনা প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।’
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা জনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।’
দেশীয় ফলের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বাংলার ঘরে ঘরে মৌসুমি ফলের সমারোহ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ফলকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে যে আনন্দ ও পারিবারিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, তা আজও বহমান।’
ফল উৎসবের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগ দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ ও তাপস দাশ পুরকায়স্থ, ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সদস্য লিয়াকত শাহ ফরিদী।
উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ মহসীন, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিনিয়র সদস্য মতিউল বারী চৌধুরী, ক্লাব সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক মামুন হাসান, ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও দৈনিক আধুনিক কাগজের প্রকাশক সাঈদ চৌধুরী টিপু, দৈনিক যুগভেরীর বার্তা সম্পাদক ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু।
ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহ সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ রাজেশ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক জামিল আহমদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, নির্বাহী সদস্য নবীব সোহেল, রণজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব আহমদ রাসেল।
ক্লাব সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক টিভির ও যায়যায়দিনের ব্যুরো প্রধান কাইয়ুম উল্লাস, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক আনিস মাহমুদ, দৈনিক সমকালের স্টাফ ফটো সাংবাদিক ইউসুফ আলী, দৈনিক আজকের সিলেটের সম্পাদক ও শ্যামল সিলেটের সহকারি সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, দৈনিক আধুনিক কাগজের অনলাইন সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম সুজন, দৈনিক যুগভেরীর সিনিয়র রিপোর্টার এম এ মালেক, দৈনিক উত্তরপূর্বের প্রধান আলোকচিত্রী শংকর দাস ও ফটো সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সিলেট ভিউ’র স্টাফ রিপোর্টার সুব্রত দাস, দৈনিক উত্তরপূর্বের সিনিয়র রিপোর্টার ওলিউর রহমান, মাইটিভির ক্যামেরা পার্সন শাহীন আহমদ, সিলেট ভিউটোয়েন্টিফোর.কম’র বার্তা সম্পাদক এনামুল কবীর, সিলেটভিউটোয়েন্টিফোর.কম এর নিজস্ব প্রতিবেদক রাশেদুল হোসেন সোয়েব, দৈনিক ইনকিলাব’র স্টাফ ফটো সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের প্রেসক্লাবের সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার সিলেট ব্যুরো প্রধান মিঠু দাস জয়, দৈনিক খবরের কাগজের স্টাফ ফটো সাংবাদিক মামুন হোসেন, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র সিলেট প্রতিনিধি ভবরঞ্জন মৈত্র বাপ্পা, আধুনিক কাগজের চিফ রিপোর্টার জিকরুল ইসলাম, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র স্টাফ রিপোর্টার সোহাগ আহমদ, দৈনিক উত্তরপূর্বের সিনিয়র সাব এডিটর ফয়জুল আহমদ, চ্যানেল ২৪ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজহার উদ্দিন শিমুল, আজকের সিলেটের সহকারি সম্পাদক এসএম মিজানুর রহমান, নিউজ ২৪ টিভি’র সিলেট প্রতিনিধি নাজাত আহমদ পুরকায়স্থ, মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সাকিব আল মামুন, সিলেটভিউ’র স্টাফ ফটোসাংবাদিক মো. শহীদুল ইসলাম সবুজ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন মোজাম্মেল হক, একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন তারেক আহমদ, শ্যামল সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার রায়হান উদ্দিন, বার্তা২৪.কম এর সিলেট প্রতিনিধি মো. মোশাহিদ আলী, যুগভেরীর কম্পিউটার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের কম্পিউটার ইনচার্জ মিলন তালুকদার প্রমুখ।
অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এসোনিক সিলেটের সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লাহ গুলজার, মন্ত্রীর একান্ত সহকারি সোহেল আহমদ, দৈনিক খবরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার শাকিলা ববি প্রমুখ।

Posted ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


