মঙ্গলবার ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ১২ বছরেও হয়নি সংস্কার

স্থানীয়দের উদ্যোগে বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতন, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ছয়টি গ্রামের মানুষ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   |   সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   7 বার পঠিত

স্থানীয়দের উদ্যোগে বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতন, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ছয়টি গ্রামের মানুষ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু গত ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝ বরাবর বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠের পাটাতন বসানো হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর উত্তর পাশও কিছুটা দেবে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে ২০১৪ সালে সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ে একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর পার হলেও সেতুটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী যুথি বলে, প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কা সবসময় থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হাসিব জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ হাওলাদার বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই কাঠের পাটাতন বসিয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হয়নি। সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com