বৃহস্পতিবার ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

শুধু টুথপেস্ট নয় নিত্য ব্যবহার্য পণ্যে রয়েছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

অনলাইন ডেস্ক   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   18 বার পঠিত

শুধু টুথপেস্ট নয় নিত্য ব্যবহার্য পণ্যে রয়েছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

ফাইল ছবি

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বহুবিধ পণ্য এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টুথপেস্টই নয়; নিত্যদিনের নানা প্রসাধনী, পোশাক, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, টি-ব্যাগসহ বহু প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে প্রতিনিয়ত মানবদেহে প্রবেশ করছে এসব অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।

প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণাকে বলা হয় ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। অত্যন্ত ছোট আকারের কারণে এসব কণা সীসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারি ধাতু এবং নানা ধরনের জীবাণু সহজে বহন করতে পারে। ফলে মানবদেহে প্রবেশের পর এগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিত্যদিনের ব্যবহারের বেশ কিছু উপাদান মাইক্রোপ্লাস্টিকের অন্যতম উৎস। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ফেসওয়াশ ও তৈরি স্ক্রাবের ‘মাইক্রো-বিডস’ এবং কিছু নির্দিষ্ট টুথপেস্ট।
  • লিপস্টিক, আইলাইনার, নেইলপলিশ ও ওয়েট ওয়াইপস।
  • পলিয়েস্টার ও নাইলনের পোশাক এবং গুঁড়ো বা তরল ডিটারজেন্ট।
  • টি-ব্যাগ, নন-স্টিক কড়াই বা প্যানের প্রলেপ, একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল-ইউজ) কাপ ও সিগারেট ফিল্টার।
  • বোতলজাত পানি, বাজারজাত লবণ এবং প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড।

মানবদেহে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি 

বিশেষজ্ঞরা জানান, খাদ্য, পানি, বাতাস ও প্রসাধনীর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক দেহে প্রবেশ করে রক্ত, ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং এমনকি গর্ভফুল বা প্লাসেন্টাতেও জমা হতে পারে। এর ফলে যেসব জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে:

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি: রক্তনালীতে প্লাস্টিক কণা জমা হয়ে রক্তজমাট বাঁধার আশঙ্কা বাড়ায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

পাচনতন্ত্রের ক্ষতি: অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে হজমের সমস্যা তৈরি হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ফুসফুসের জটিলতা: বাতাসের মাধ্যমে নিঃশ্বাসের সঙ্গে প্লাস্টিক কণা ফুসফুসে প্রবেশ করলে স্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: প্লাস্টিকে ব্যবহৃত থ্যালেটস ও বিসফেনল-এর মতো রাসায়নিক শরীরের স্বাভাবিক হরমোন কার্যক্রম ব্যাহত করে প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি: অতিক্ষুদ্র ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’ কণা মস্তিষ্কে পৌঁছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে, যা আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া ও পারকিনসনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ডিএনএ-র ক্ষতি ও ক্যানসার: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কণা দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ঝুঁকি কমানোর উপায় 

জীবনযাত্রা থেকে প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা প্রায় অসম্ভব হলেও কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন এনে এর প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব:

১. খাবার ও পানি রাখার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করা।

২. প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ডের বদলে কাঠের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা।

৩. প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রেখে তা ওভেনে বা অন্যভাবে গরম না করা।

৪. টি-ব্যাগের বদলে সাধারণ খোলা চা পাতা ব্যবহার করা।

৫. বোতলজাত পানির ক্ষেত্রে কাচের বোতল অগ্রাধিকার দেওয়া।

৬. প্রসাধনী কেনার সময় মাইক্রো-বিডসমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পণ্য নির্বাচন করা।

৭. ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা, কারণ বাতাসের ধুলাতেও প্লাস্টিকের আঁশ ভেসে বেড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতি থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। তবে মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com