



অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 105 বার পঠিত

দেশে প্রথমবারের মতো ‘টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি-২০২৫’ শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এই টিকা প্রদান কর্মসূচি চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫) সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে দ্য লুমিনাস স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইন ধরে শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে দেখা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। দ্য লুমিনাস স্কুলে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. সাইফুর রহমান, উপাধ্যক্ষ খসরুল আলম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সরকারী এ কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনা মূল্যে এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে। জন্মসনদ নেই, এমন শিশুরাও বিশেষ ব্যবস্থায় এই টিকা পাবে।
দেশে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) প্রদানের এটাই প্রথম ক্যাম্পেইন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পেইনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান পর্যন্ত সব ছাত্র-ছাত্রীকে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ইপিআই কেন্দ্রে এক ডোজ করে টিকা দেওয়া হবে। এর বাইরেও সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে। এই নিবন্ধন অব্যাহত আছে। টিকা নিতে হলে অভিভাবকদের তাদের শিশুর ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দিয়ে অনলাইনে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া কর্মসূচির শেষ দিন পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশের সবচেয়ে মারাত্মক টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলোর মধ্যে একটি, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। টাইফয়েড সাধারণত দূষিত পানি, খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মাধ্যমে ছড়ায় এবং ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার জন টাইফয়েডে মারা গেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৬ হাজার বা ৬৮ শতাংশই ১৫ বছরের নিচের শিশু। টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকা, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দ্বারা পরীক্ষিত ও অনুমোদিত। এতে প্রোটিন ও শর্করা উভয় উপাদান রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

Posted ১০:০৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


