



রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 22 বার পঠিত

মাহিমা রেস্টুরেন্টে। কেউ ডাকেন গরিবের হোটেল। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেট, পৌরপয়েন্ট, জগন্নাথপুর বাজার অবস্থিত হোটেলটিতে প্রতি শুক্রবার গড়ে ৩শ অসহায়, গরিব, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার খাওয়ান হোটেল মালিক মোঃ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া।নবী রাসূলের নামে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নিজের ব্যবসার একটি অংশ দিয়েই চালাচ্ছেন এই মেহমান খানা। এমন উদ্যোগে খুশি দিনমজুর, গরিব ও ক্ষুধার্থ মানুষ।
পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ইকড়ছই হলো সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর পৌরসভার অন্তর্গত একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ।

ইকড়ছই বাসিন্দা মৃত জালাল আহমদ ছেলে মোঃ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া। এলাকার সবাই ডাকে সমাজসেবক নামে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু একটি হোটেল থেকে খাবার না দিয়ে একজন পাগল ফকিরকে বের করে দিতে দেখে গরিব, অসহায় ও ভিখারীদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা জন্মে তার মনে। নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে প্রতি শুক্রবার গরিব অসহায়দের জন্য বিনামূল্যে খাবারের এই উদ্যোগ চালু করেন তিনি।
প্রতি শুক্রবার ৫০ জনের খাওয়ানোর চিন্তা নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ৩শ মানুষ বিনামূল্যে খাওয়ানো হয় এই হোটেলে।
এমন মহৎ কাজের উদোক্তা মোঃ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া জানান, কিছু টাকা সঞ্চয় করে চালু করেন নিজের এই হোটেল ব্যবসা। গরিব-দুঃখী অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের কথা চিন্তা করে সপ্তাহে একটি দিন অন্তত যাতে তারা ভালো খেতে পারে সেজন্যই তার এই প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, আমি লোক দেখানোর জন্য এগুলো কিছু করি না। আমার নবী রাসূলের নামে আমি যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি পাই তাই গরিব, অসহায়, ফকিরদের জন্য এই খাবারের ব্যবস্থা করা। এই কাজে আমি কারো সহযোগিতা নিই না। আল্লাহ আমাকে যতদিন তৌফিক দেন আমি ততদিন এভাবেই মানুষকে খাবার দিয়ে যাবে। আমার হোটেলে যদি ৫শ মানুষও আসে আমি তাদের খাওয়াবো ইনশাআল্লাহ। হোটেলে যারা খেতে আসছেন তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ ভিক্ষুক কেউবা আবার দিনমজুর। এছাড়াও আশপাশের মাদরাসা ও এতিমখানা থেকেও আসছে। একটু ভালো খাবার খাওয়ার আশায় প্রতি শুক্রবার তাদের ছুটে আসা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ) সরেজমিনে হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে চলছে রান্নার কাজ। হোটেলের কর্মরত স্টাফরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি করছেন খাবার। পরে জুমার নামাজের শেষেই দেখা গেলো অসহায়, গরিব, ফকির ও মাদরাসার এতিম ছাত্ররা আসতে শুরু করেন হোটেলে। সবাই যে যার মতো বসে পড়তে থাকেন হোটেলের চেয়ারে। কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় খাবার বিতরণ। হোটেলে স্টাফরা সবাই একত্রিতভাবে খাবার পরিবেশন করেন আনন্দের সঙ্গে। মাদরাসার কয়েকজন এতিম শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এর আগেও বেশ কয়েকবার এই হোটেলে এসেছি। এখানে আসলে কোনো শুক্রবার মুরগির মাংস, কোনো শুক্রবার গরুর মাংস, মাছ সঙ্গে ডাল দিয়ে খাবার দেয়। আমাদের অনেক ভালো লাগে।
রিকশাচালক কামরুল ইসলাম , সেলিম হোসেনসহ কয়েকজন জানান, আমরা জানি প্রতি শুক্রবার এখানে আল্লাহর ওয়াস্তে খাবার দেয়। তাই আমরা শুক্রবার চলে আসি। অন্য হোটেলে গেলে একশ থেকে দুইশ টাকার মতো লেগে যেত। কিন্তু ভাই আমাদের কাছ থেকে কোনো টাকা রাখে না। তাই চলে আসি।
হোটেলের বাবুর্চি শরিফ আহমেদ, সুজন, বিশু জানান, শুধু শুক্রবার নয় এখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন গরিব অসহায়কে আল্লাহর ওয়াস্তে খাওয়ানো হয় এবং এজন্য হোটেল কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া আছে মালিক কর্তৃপক্ষের।
তারা বলেন, মালিক পক্ষের এমন উদ্যোগে অনেক খুশি তারা। যদিও গরিব বলে এমন মহৎ কাজে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেন না তারা। তবে শারীরিক পরিশ্রম দিয়ে পাশে থাকতে পেরে খুশি।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মোঃ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া এমন উদ্যোগটি ইতোমধ্যে উপজেলায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই। তার কারণে আমাদের এলাকার অনেক অসহায় গরিব ও ক্ষুধার্থ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একদিন ভালো খাবার খেতে পারছে। তারা বলেন, আমাদের সমাজে এমন অনেক কোটিপতি আছে যাদের অঢেল সম্পত্তি থানা সত্ত্বেও এমন উদ্যোগ নেন না। তাই ভূঁইয়ার এমন উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ। তারা প্রত্যাশা মকবুল হোসেন ভূঁইয়া দেখে এমন কাজে এগিয়ে আসবেন সমাজের বিত্তবানরা।

Posted ৭:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


