বৃহস্পতিবার ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কালিয়াকৈরে আখক্ষেতে লাল পচা রোগে আক্রান্ত, কৃষকরা দিশেহারা

গাজীপুর প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   34 বার পঠিত

কালিয়াকৈরে আখক্ষেতে লাল পচা রোগে আক্রান্ত, কৃষকরা দিশেহারা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বারবাড়িয়া এলাকায় আখক্ষেত ব্যাপকভাবে লাল পচা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা চরম হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে|

উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ভাউমান ও বাড়বাড়ীয়া দক্ষিণাঞ্চলে কম খরচে বেশি উৎপাদনে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন আখচাষে ঝুঁকে পড়েন| বিগত বছরগুলোতে বেশ কিছু আখচাষিরা লাভবান হওয়ায় নতুন করে অনেক কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছেন| আখ চাষের মধ্যে “ইশ্বরদী জাত “কম খরচে ভালো ফলন ও মূল্য বেশি হওয়ায় চলতি মৌসুমে এর চাষাবাদ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে|

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর হঠাৎ আখক্ষেতে ‘লাল পচা’ রোগে আক্রান্ত ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে| ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এ বছর ৩০ জন কৃষকের প্রায় ১৫ একর জমিতে ‘ইশ্বরদী জাতের’ আখের চাষাবাদ করা হয়েছে| প্রতিটা চারা থেকে ১২ বা ১৫ টি আখ জন্ম হয়| কোন কোন চারা থেকে আরও বেশি হয়| হঠাৎ করে এ বছর লাল পচা রোগের আক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে| এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন কোন গোড়ালিতে একটিতে এ ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ১২-১৫ টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়| কৃষকরা আক্রান্ত আখ গোড়ালি থেকে উপরে ফেলে দিয়েও কোন রক্ষা পাচ্ছে না| স্থানীয় কৃষি বিভাগের দেয়া পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রকার সুফল পাচ্ছে না|
বারবাড়িয়া এলাকার আখ চাষী সুনীল চন্দ্র সরকার বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ইশ্বরদী জাতের আখ চাষ করেছি| প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করেও লাল পচা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার প্রায় ৯০ ভাগ আখের ফলন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে| সুধাংশু সরকার বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে ৬ শত আখের চারা রোপণ করেছি| এতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা| ভাইরাসে আক্রান্ত না হলে এবং ফলন ভালো হলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করতে পারতাম, কিন্তু লাল পচা রোগে আমার প্রায় ৬০ ভাগ আখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে|

নতুন উদ্যোক্তা ও শিক্ষিত যুবক পরিমল চন্দ্র সরকার বলেন, গত বছর আমি বেশ লাভবান হয়েছি| ভাইরাসজনিত লাল পচা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১৫ শতাংশ জমিতে ভিত্তাকো,এমিষ্টার টপ, নাটিবো, লোনা, রাউজান, মিউবিট, সেমরাপ ও আষ্টন ব্যবহার করে কোন সুফল পাচ্ছিনা| এসব কীটনাশক ব্যবহারে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা| এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে কোন কর্মকর্তা আক্রান্ত জমিতে দেখতে আসেনি|

সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি, এক সাংবাদিকের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেছি, আক্রান্ত জমিগুলো দেখেছি এবং কৃষকদের নিয়ে উঠান ˆবঠক করেছি|

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই| লাল পচা রোগটি ভাইরাস| একবার আক্রান্ত হলে আখ কেটে ফেলতে হয়| আখ চাষ দুই তিন বছর পর পর অন্য ফসল রোপণ করতে হয়| এটি বীচ বাহিত রোগ| কৃষকরা আখ চাষে পূর্বে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো|

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com