



গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 91 বার পঠিত

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীর গ্রামে জমজ দুই কন্যা শিশুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক।ওই যুবককে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে ধাওয়া করে আটক করে মারধর করতে থাকেন গ্রামবাসী।শিশু অপহরণ কারী হিসেবে মারধরের ভিডিও মূহুর্তেই সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মোঃ কবীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। আটক যুবককে থানায় নেওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আটক ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিয়াজ বাহিনীর প্রধান রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ‘শুটার রিয়াজ’।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিন টার দিকে গোয়াইনঘাটের আলীরগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রামবাসীর কাছ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাটে সন্ত্রাসী রিয়াজুল ইসলামের অবস্থানের খবর পেয়ে তাঁকে সন্ধান করছিল র্যাব। ওই সময় একটি গাড়িতে করে রিয়াজুল তাঁর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে গোয়াইনঘাটের আলীরগ্রামের দিকে যান। তাঁর পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে বুঝতে পেরে তিনি আলীরগ্রামের একটি বাড়ির বারান্দায় একটি মহিলার কাছে তার দুই কন্যা শিশুকে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই শিশুকে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনায় মহিলার অপহরণ কারীব সন্দেহ হলে চিৎকারে গ্রামবাসী তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করতে থাকেন। মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে থাকেন।
জানা গেছে গেছে, আটককৃত শুটার রিয়াজ গতকাল একটি প্রাইভেট কার যোগে মা খালা স্ত্রী ও দুই যমজ কন্যা শিশু ও একটি নবযাতক শিশু কে নিয়ে জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন। পরে জাফলংয়ে হাজী সোনা মিয়ার কর্টেজে রুম করে রাত্রি যাপন করেছিলেন।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ইন্সপেক্টর( তদন্ত) মোঃ কবীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়াজুল ও দুই শিশুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ সময় রিয়াজুলের ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়।পরে রিয়াজুলকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। জানা যায়, তিনিই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নারায়নগঞ্জের শুটার রিয়াজ।
গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীকে শান্ত করেন। প্রথমে বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে মনে করেছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে দুই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে তাদের বাবা গাড়িতে করে বেরিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে থানায় যাওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, ওই ব্যক্তিকে র্যাব ধাওয়া করেছিল। র্যাবের হাত থেকে বাঁচতে দুই শিশুকে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তখন এলাকাবাসী শিশু অপহরণকারী সন্দেহে আটক করেন। আটক ব্যক্তি তার মা খালা ও স্ত্রীসহ জাফলংয়ে এসেছিলেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, শুটার রিয়াজের বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জে হত্যাসহ ২২ টি মামলা রয়েছে। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ থানা পুলিশ কে অবগত করা হয়েছে। তারা সিলেট আসছে। সে বর্তমানে গোয়াইনঘাট থানা হেফাজতে রয়েছেন।

Posted ১০:৪৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


