



মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত

“ইতিবাচক অংশীদারিত্ব” এই মূল থিম-কে সামনে রেখে মহান সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি এবং দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে অভূতপূর্ব আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং বর্ণিল কোলাহল আর বিশ্ব মৈত্রীর বন্ধনে সম্পন্ন হলো সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ-এর গৌরবময় ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বেতার সংস্কৃতির বিকাশ ও বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের সাথে গড়ে ওঠা বন্ধনের গৌরবোজ্জ্বল এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে গত শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বেতার অনুরাগীদের মিলনমেলা “শ্রোতা উৎসব ২০২৬: প্রেক্ষিত- আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট”।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেতার শ্রোতা, প্রথিতযশা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও সুধীজন অংশ নেন। পুরো উৎসবের মূল সমন্বয়ক ও চালিকাশক্তি হিসেবে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার, নিখুঁত ও প্রফেশনাল দক্ষতায় পরিচালনা করেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রেডিও অ্যাক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল (S21DAL- সিয়েরা টু ওয়ান ডেল্টা আলফা লিমা)।
প্রধান অতিথির দিগন্তপ্রসারী বক্তব্য: উৎসবের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী ও পদক বিতরণী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য (সিলেট-৬) অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি পদকপ্রাপ্ত ৩ জন বিশিষ্ট শ্রোতাসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মেধা স্মারক ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন। সার্ক-এর বিভিন্ন কর্মতৎপরতায় নিরলস সমর্থন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ইতিবাচক প্রচারণায় গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার শ্রোতা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কুমিল্লার শ্রোতাবন্ধু মো. ইয়াসিন উল্লাহ শিশির ও শরীয়তপুরের মো. সাইদুর রহমান সাফিন এবং ক্লাবের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ গান রচনার জন্য অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন গাইবান্ধার মনোয়ারুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগেও বেতারের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বেতার শ্রোতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং সামাজিক উন্নয়নে যে ভূমিকা পালন করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ক্লাবটি আধুনিক প্রযুক্তির তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখেও বেতার সংস্কৃতির যে মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে, তা আজ সমাজ বিনির্মাণে এক অনন্য আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ফাইভ-জি ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন আর হাজারো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই কৃত্রিম ও ভার্চুয়াল দুনিয়ার ভিড়েও শর্টওয়েভ আর এফএম তরঙ্গের যে শ্বাশত আবেদন, যে গভীর মননশীলতা এবং গুজবমুক্ত বিশ্বস্ত তথ্য সরবরাহ করার আদিম ক্ষমতা, তা প্রযুক্তি কখনো প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। বেতার কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জীবন্ত ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।” তিনি আরো বলেন, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব যেভাবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, এমনকি সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের একই ছাতার নিচে এনে একই সুতোয় গেঁথেছে, তা এক বিরল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। আধ্যাত্মিক ও সম্প্রীতির নগরী সিলেটে এই আন্তর্জাতিক শ্রোতা উৎসবের আয়োজন আমাদের গ্রিন ট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সার্ক বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও তরুণ প্রজন্মকে স্ক্রিন অ্যাডিকশন (মোবাইল আসক্তি), মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় বা বিপথগামিতা থেকে দূরে রেখে বেতারের মাধ্যমে দেশপ্রেম, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক জনসচেতনতা ছড়ানোর এই মহৎ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সৃজনশীল ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে আমাদের সকল প্রকার প্রশাসনিক ও নীতিগত সহযোগিতা, শুভকামনা সবসময় অব্যাহত থাকবে।”
ক্বিন ব্রীজ চত্ত্বরে উৎসবের প্রথম দিনের জমকালো সূচনা: এর আগে, উৎসবের প্রথম দিন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঠিক সকাল ৯টায় দেশ-বিদেশের শ্রোতাবন্ধুরা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী প্রবেশদ্বার ও ঐতিহাসিক ক্বিন ব্রীজ চত্ত্বরে ব্যানার, ফেস্টুন ও বর্ণিল প্ল্যাকার্ডসহ সমবেত হলে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দু’দিন ব্যাপী উৎসবের মূল ভাবনা/থিম “সিলেটের আকাশে বেতারের সুর: ইথার পেরিয়ে প্রকৃতির কোলে”-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা সফরের বিস্তারিত রূপরেখা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন ক্লাবের স্বপ্নদ্রষ্টা ও চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল (S21DAL)। এরপর এক আবেগঘন ও প্রেরণাদায়ী উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে ‘শ্রোতা উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন ক্লাবের কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রোটারিয়ান ড. মির শাহ আলম (S21MIR)।
জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেতারের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পুরোপুরি ধসে পড়ে, তখনো প্রান্তিক মানুষের কাছে একমাত্র লাইফলাইন বা ত্রাণকর্তা হিসেবে সবার আগে পৌঁছায় বেতারের তরঙ্গ। আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এই উৎসবের আয়োজন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও প্রতিবেশী দেশের শ্রোতাদের মাঝে এক অপূর্ব সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করেছে। বেতারের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা ও জনসচেতনতা ছড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকুক।”
ডিএক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড: “তথ্য ও বেতারের মেলবন্ধনে, আমরা চলি এক সাথে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণকে স্মরণীয় করতে বিগত ২০২৩-২৬ কর্মবছরে ক্লাবের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মতৎপরতার সংবাদ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে (প্রিন্ট ও অনলাইন) গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে গণযোগাযোগে অনন্য সহযোগিতা করার স্বীকৃতিস্বরূপ দুই জন গণমাধ্যম কর্মীকে সম্মানজনক ‘ডিএক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৩-২৬’ (DX Media Award) প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত কীর্তিমানরা হলেন- ‘সিলেটের চাকরির খবর’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ এবং ‘দৈনিক উত্তরপূর্ব’-এর সিনিয়র সাব এডিটর ও ‘আজকেরসংবাদ২৪.কম’-এর সম্পাদক ফয়জুল আহমদ।
প্রকৃতি ভ্রমণ, সাদাপাথরে কেক কাটা ও স্মার্ট প্রযুক্তির মেলবন্ধন: পুরস্কার বিতরণের পর শ্রোতা ও অতিথিদের নিয়ে এক আনন্দযাত্রায় সিলেটের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের ‘ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর’ অভিমুখে গ্রিন ট্যুর সম্পন্ন হয়। সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড় ও জলপাথরের প্রকৃতির অসাধারণ দুটি রূপ দেখতে ধলাই নদীর বুক চিরে ট্রলার নিয়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ধবধবে সাদা পাথরের মেলায় ছুটে যান শ্রোতাবন্ধুরা। স্বচ্ছ নীল জল আর পাথরের ওপর বসে সময় কাটানো শেষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে বিকেলে কেক কেটে ক্লাবের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয় এবং উৎসবের প্রথম পর্বের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের ব্যস্ত সূচি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে আবেগঘন পরিবেশ এবং সোলার রেডিও উপহার: উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি মাননীয় সংসদ সদস্য (সিলেট-৬) অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর হাত থেকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণের পর শ্রোতারা সিলেটের সীমান্ত কন্যা জাফলং পরিদর্শনে যান। ওপারে ভারতের ডাউকি পাহাড় ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা, ঝুলন্ত ব্রিজ, আর এপারে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জল ও পাথরের বিছানা, জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট দেখার পাশাপাশি আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে মুগ্ধ শ্রোতাবন্ধুরা। আসার পথে চোখ জুড়ানো শ্রীপুর চা বাগান, প্রাচীন পাথর কোয়ারি এবং সরকারের সফল মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পবাসীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সংগ্রামী জীবনযাত্রার মান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেন শ্রোতাবন্ধুরা। সেখানে প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প শোনার সেই মুহূর্তে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তারা ‘সার্ক ২নং জৈন্তাপুর ইউপি ইউনিট, সিলেট’ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ক্লাব সদস্যদের সাথে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এই সময় গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব শক্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং সৌহার্দ্যরে প্রতীক হিসেবে শ্রোতাবন্ধু মো. ইয়াসিন উল্লাহ শিশির ক্লাবের জৈন্তাপুর ইউনিটের যোগ্য আহবায়ক আছিয়া আক্তারকে একটি বিশেষ পরিবেশবান্ধব ও রিচার্জেবল ‘সোলার রেডিও সেট’ উপহার দেন।
আধ্যাত্মিক ট্যুর ও ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন: দুই দিনের এই ঠাসা সূচিতে উৎসবে অংশ নেওয়া শ্রোতাদল একে একে সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহাসিক লাক্কাতুরা চা বাগান, দৃষ্টিনন্দন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস), ফুটবল স্টেডিয়াম, সুরমা নদীর ওপর নির্মিত আধুনিক কাজিরবাজার ব্রীজ ভ্রমণ করেন। ভ্রমণের পাশাপাশি তারা হৃদয়ের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, মানসিক মুক্তি ও বরকত লাভের আশায় সিলেটের দুই প্রধান সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। প্রতিটি স্পটে লাইভ গাইড হিসেবে ক্লাব চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল (S21DAL) শ্রোতাদের সামনে সংশ্লিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্য/ ইতিহাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে ব্যাখ্যা/ উপস্থান করেন।
বৈদেশিক শুভেচ্ছা বার্তা, শ্রোতা বক্তব্য ও উপস্থিতি: এবারের উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রেডিও রিপাবলিক ইন্দোনেশিয়া (আরআরআই) ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া (ভিওআই) থেকে প্রেরিত দুইটি বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক মৈত্রীকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বেতার কেন্দ্র ‘ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া’ থেকে যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে, তা প্রমাণ করে বেতারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব কতটা সুদৃঢ় হতে পারে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলের মোবাইল স্ক্রিনে ভিডিও বার্তাটি একযোগে প্রদর্শন করা হয় এবং করতালির মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পরে দুই দিনব্যাপী এই মহোৎসবে সমাজ বিনির্মাণে বেতারের ভূমিকা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ক্লাবের কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান তাছলিমা আক্তার লিমা, মহাসচিব নুর মোহাম্মদ, শিশু বিষয়ক সম্পাদক লাবীব ইকবাল, সিলেট জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ রায় (S21AAI), শাহপরান ইউনিটের সভাপতি মো. ময়নুল হক ও সহ-সভাপতি মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, সিলেট মহানগর ইউনিট সভাপতি এম এ ওয়াদুদ আল মামুন, লাক্কাতুরা চা বাগান ইউনিটের সভাপতি বিক্রম রায়, খাঁন চা বাগান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক লোচন বাড়াইক, ২নং জৈন্তাপুর ইউপি ইউনিটের আহবায়ক আছিয়া আক্তার, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা ‘সুবাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং দৈনিক সচিত্র সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ আছলাম হোসেন, সিলেটের চাকরির খবর-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ, দৈনিক উত্তরপূর্ব-এর সিনিয়র সাব এডিটর ফয়জুল আহমদ, শ্রোতাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ইয়ামিন হোসেন, শরীয়তপুরের মো. সাইদুর রহমান সাফিন, কুমিল্লার মো. ইয়াসিন উল্লাহ শিশির, নেত্রকোণার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান ছোটন ও মোহাম্মদ সুমন আহমেদ, কিশোরগঞ্জের এম. এইচ. মামুন রশীদ প্রমুখ। বক্তারা সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাবের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বেতারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং শ্রোতা আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও ফেক নিউজ (ভুয়া খবর) রোধে বেতারের মতো সুস্থ, পরিমার্জিত ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের চর্চা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসময় বেতারের নিবেদিতপ্রাণ শ্রোতাবন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ক্লাবের চট্টগ্রামের সদস্য মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, বিধান বড়ুয়া, শেখ মোহাম্মদ আজাদ ও আক্তার হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিটের সদস্য মুশফিকুর রহমান (সাহিল), সিলেট জেলা ইউনিটের রায়হান আহমদ রাশেদ, আ. আলীম ও মো. তামিম উদ্দিন, শাহপরান ইউনিটের যুগ্ম সম্পাদক নোমান উদ্দিন রায়হান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফয়ছল আহমদ চৌধুরী, সদস্য মামুনুর রশীদ, ফাতেমা বেগম, মমতা জান্নাত, শাহরিয়া আহমদ শাহী, মো. গোলাম সারোয়ার, মোছা. ফাতেমা জান্নাত মিম, ২নং জৈন্তাপুর ইউপি ইউনিটের রোকেয়া আক্তার, ফাহমিদা আক্তার কেয়া, তাসমিম জাহান ইমা, মন্দিরা বাড়াইক, রেজওয়ান আহমেদ, মো. মাসুম আহমদ, খাঁন চা বাগান ইউনিটের উপমা রায় ও টুসুমনি বাড়াইক, হাবিবনগর চা বাগান ইউনিটের মিঠুন বিশ্বাস ও প্রীতি রাউতিয়া, লাক্কাতুরা চা বাগান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সমিত গঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক অনিকা দাস, সদস্য সারতি সবর, তানজিনা আক্তার রুমা ও সকালমনি দাস, জকিগঞ্জের সুমাইয়া মনি, সৈয়দা আজিজা মীম, সৈয়দা নাজিফা মুম ও সৈয়দা নুজাইফা মৌমি, খাদিম চা বাগানের আসমা আক্তার, রোকসানা বেগম মুন্নি ও মোছা. জেসমিন আক্তার, কালাগুল চা বাগানের রহিমা বেগম, অপি ছত্রী ও ইয়াসমিন আক্তার।

Posted ১১:৫৫ পিএম | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


