



অনলাইন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 8 বার পঠিত

নাম তার লিনা মেদিনা| বিশ্বের কনিষ্ঠতম মা| ১৯৩৯ সালে মাত্র ৫ বছর ৭ মাস ২১ দিন বয়সে প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিল পেরুর বাসিন্দা এই শিশু|
লিনার এই পরিস্থিতির কথা নিমেষে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল| সাংবাদিকদের ঢল নেমেছিল| তাকে নিয়ে, তার জীবনযাপন নিয়ে একাধিক তথ্যচিত্রের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাবও পায় সে|
অ¯^াভাবিক এই পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক মহলে টালমাটাল অবস্থা, এসব কিছু থেকে একেবারেই অজ্ঞাত ছিল লিনা| সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়েটি তখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পুতুল নিয়ে খেলতে ব্যস্ত|
লিনার জন্ম হয়েছিল পেরুর টিক্রাপোতে| বাবা ছিলেন টিবুরেলো মেদিনা এবং মা ভিক্টোরিয়া লোসিয়া| লিনারা ছিল ৯ ভাইবোন| তবে অন্যদের তুলনায় লিনা যেন একটু তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাচ্ছিল| বিশেষ করে ওই বয়সে তার স্তনের বৃদ্ধি সকলের চোখে পড়ছিল|
লিনা যখন ৫ বছরের আরও একটি বিষয় নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন ছিল| তার পেট ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছিল| মা-বাবা, আত্মীয়-পরিজন থেকে চিকিৎসক সকলেই প্রাথমিকভাবে ভেবেছিল পেটে টিউমার হয়েছে|
পিসকো হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন টিউমারের জন্য নয়, লিনার গর্ভে বড় হচ্ছে তার সন্তান!
লিনা তখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! আর লিনার বয়স তখন ৫ বছর ৭ মাস ২১ দিন| অর্থাৎ ৫ বছরেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল লিনা! চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর আগে এমন উদাহরণ ছিল না|
এই ঘটনা সামনে আসার সঙ্গে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছিল| লিনার উপর হওয়া যৌন হেনস্থার বিষয়| ছোট্ট লিনার সন্তানের বাবা কে তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়|
অস্ত্রোপচার করে লিনার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়| নাম রাখা হয় গেরার্ডো| যে চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করেছিলেন তারই নামানুসারে| জন্মের সময় সন্তানের ওজন ছিল ২ কিলোগ্রাম ৭০০ গ্রাম| অর্থাৎ ¯^াভাবিক ওজন নিয়ে সমস্ত দিক দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছিল ছোট্ট লিনা|
তার ছেলে গেরার্ডোর কাছে লিনার পরিচয় ছিল বড় বোন| গেরার্ডো তার সঙ্গে সেভাবেই আচরণ করতেন| সারা দিন ‘বোনের’ সঙ্গে খেলাধুলা করে, কখনও বা লড়াই করে দিন কেটে যেত| ১০ বছর বয়স হলে গেরার্ডো জানতে পারে লিনা আসলে তার মা|
লিনাকে নিয়ে চিকিৎসক মহলে নানা গবেষণা হয়েছে| লা প্রেসি মেডিকেল জার্নালে তাকে নিয়ে বিস্তর প্রচ্ছদ প্রকাশিত হয়| তাতে জানা যায়, ৮ মাস বয়স থেকেই ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গিয়েছিল তার| অর্থাৎ তখন থেকেই প্রজননশীল হয়ে পড়েছিল সে|
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় প্রিকসিয়াস পিউবার্টি| অর্থাৎ সময়ের অনেক আগেই প্রজনন ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়া| মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে যৌন হরমোন নিঃসৃত হয়, সেই অংশেরই কিছু সমস্যার কারণে এমনটি ঘটে থাকে, যা বিরলতম ঘটনা|
পরবর্তীকালে তার চিকিৎসক গেরার্ডো লোজাডার ক্লিনিকেই তিনি সেক্রেটারির কাজ করতেন| উপার্জনের অর্থে ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়ে বড়ও করেন লিনা| কিন্তু নিজের পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠ বৃত্ত ছাড়া কারও সঙ্গেই আলোচনা করেননি তিনি|
১৯৭০ সালে বিয়ে করে লিনা| তার ¯^ামীর নাম রাউল জুরাদো| বিয়ের দু’বছর পর তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়| আর প্রথম সন্তান গেরার্ডো ১৯৭৯ সালে মাত্র ৪০ বছর বয়সে অস্থিমজ্জা সংক্রান্ত রোগে মারা যান|
লিনার জন্ম হয় ১৯৩৩ সালে| সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ৯২ বছর| পেরুতেই থাকেন তিনি| আজও তাকে তাড়া করে বেড়ান সাংবাদিকরা| কিন্তু প্রথম থেকেই একটি বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি| এ নিয়ে কখনও কোনও সাক্ষাৎকার তিনি দেননি|
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Posted ৮:২৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
ajkersangbad24.com | Fayzul Ahmed


