বুধবার ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
প্রান্তিক এলাকায় নারীদের উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক সেমিনার

নারী শিক্ষা বিস্তারে সরকার প্রান্তিক এলাকায় কাজ করছে- নাদেল এমপি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   21 বার পঠিত

নারী শিক্ষা বিস্তারে সরকার প্রান্তিক এলাকায় কাজ করছে- নাদেল এমপি

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, শিক্ষা মানুষের সুযোগ নয় অধিকার। এ জন্য প্রত্যেককে পড়ালেখা শিখে শিক্ষিত হতে হবে। প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। নারী শিক্ষা বিস্তারে সরকার প্রান্তিক এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৫ বছর উন্নয়ন থেকে কুলাউড়া অনেক পিছিয়েছে। সেমিনারে কুলাউড়ার উন্নয়নে একসাথে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নে এম এ আহাদ আধুনিক কলেজে প্রান্তিক এলাকায় নারীদের উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা এবং তার প্রতিকার শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন।

শফিউল আলম নাদেল বলেন, পরিবার থেকে বিশ্বপরিমণ্ডলে শিক্ষার প্রভাব বিস্তৃত। দেশে শিক্ষার হার প্রতিনিয়ত বাড়লেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রামের ছাত্রীরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে।

তিনি আরো বলেন, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব’। এই উক্তিটি স্পষ্ট যে, নারী শিক্ষার অগ্রাধিকার কতটা সুউচ্চে। অথচ নারীরা শিক্ষার দিকে এগিয়ে আসছেন ঠিকই; কিন্তু উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক হারে এগোতে পারছেন না।
তিনি গ্রামের নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নামক অগ্রযাত্রায় শামিল হতে না পারার পেছনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রান্তিক সমাজে বেশির ভাগ পরিবারে মেয়েদেরকে ঘরের শোভা হিসেবে ভাবা হয়। এতে তাদের শিক্ষা অর্জন মাধ্যমিকেই সমাপ্ত হয়। কিছু পরিবারে আর্থিক সংগতি থাকা স্বত্ত্বেও কুসংস্কারের কারণে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা থেকে বিরত থাকে।

বাল্যবিবাহ গ্রামের নারীদের উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। মেয়েদের ১৮ বছরের পূর্বে সাবালিকা হলেই বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর পড়াশোনা চলমান থাকে এমন শিক্ষার্থী খুবই কম। স্বামীর উদার মন-মানসিকতার অভাবে নারীর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয় না।
নাদেল বলেন, একজন উচ্চশিক্ষিত নারী সুরক্ষিত দুর্গের মতো কাজ করেন। পরিবারের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও তাদের অবদান আছে। গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশের অনিবার্য ধাপ উচ্চশিক্ষা অর্জন। তাই গ্রামে নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহী করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গ্রামাঞ্চলে বৈষম্যহীন সাম্যনীতি গড়ে তুলতে পারলেই নারীরা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে। শফিউল আলম নাদেল নারীদের উচ্চশিক্ষা প্রসারে সুস্থ ও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

সেমিনারে প্রধান আলোচক মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, নারী শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই নারীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার কিংবা বিচারপতি থেকে শুরু করে সকল পেশায় তাদের পদচারণা ও দক্ষতা নিশ্চিত করেছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেকে জানেনই না, নারীদের উচ্চশিক্ষার জায়গা কতটা সুপ্রশস্ত। যার দরুন তারা মেয়ে সন্তানকে শুধু গৃহস্থালি কাজে পারদর্শী করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এমএ আহাদ আধুনিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলেজের সভাপতি মেজর (অবঃ) নূরুল মান্নান চৌধুরী।

অধ্যক্ষ মো. হানিফ ও প্রভাষক আলাউদ্দিন কবিরের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শমসেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন ইমরানুর রহমান, ওসমানী মেডিকেল কলেজের সমাজ সেবা কর্মকর্তা জাহানারা আক্তার লিজা, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ, লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আতাউর রহমান, কুলাউড়া বিআরডিবির চেয়ারম্যান তালুকদার মো. সাইফুল ইসলাম, প্রমুখ।

কোরআন তেলাওয়াত করেন আফতাহি শাহরিয়ার। গীতা পাঠ করেন প্রভাষক বিজয় সূত্র ধর। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তারেকুর রহমান।

বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, থানার ওসি মো. আলী মাহমুদ ও কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ৩ হাজার দুইশ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে বীজ ও ২০ কেজি করে দুই জাতের সার দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com