বুধবার ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুনে দগ্ধ হতাহত পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

গাজীপুর প্রতিনিধি   |   সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   98 বার পঠিত

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুনে দগ্ধ হতাহত পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডারে লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে ৩৬ জনের মধ্যে ১৭ জনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন । এমনিতেই নিহত ব্যক্তিরা সকলেই নিম্ন আয়ের পরিবার। মাহে রহজানের শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও স্বজন হারানো প্রতিটি পরিবারে নেই কোন ঈদের আনন্দ। তাদের মাঝে বিরাজ করছে বুক ফাঁটা কান্না, আহাজারি ও আপনজন হারানো বেদনা। এসব পরিবারে এখনও শোকের মাতম কাটেনি।

বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হত দরিদ্র ব্যক্তিরা পেটের ক্ষুধা ও জীবন বাঁচার তাকিদে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পরিবার নিয়ে টিনসেট ঘিঞ্জিঘরে বসবাস করে দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করতো। হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডরের আগুনে দগ্ধ হয়ে হতাহত পরিবারের নূণ্যতম বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।

সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থল এলাকা ঘুরে স্বজন হারা পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, অকালে অনেকের স্বামী হারা, স্ত্রী হারা ও সন্তান হারা পরিবারে ঈদের আনন্দের কোন ছিটে ফোটাও দেখা যায়নি। তাদের মধ্যে এখনও স্বজন হারনো বেদনা ও স্মৃতি ভোলেনি । কিভাবে বেঁচে থাকবে এ চিন্তায়ই পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্বজন হারা পরিবারগুলো পায়নি কোন অনুদান বা ক্ষতিপূরণ। এছাড়া অনেকেই দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

 

 

আইসক্রিম বিক্রেতা শাহ আলম ধুকরে ধুকরে কেঁদে উঠে বলেন, আমার স্ত্রী ও ১১ বছরের পুত্র মইরা গেছে। আমাগোরে কোন ঈদ নাই। স্ত্রী ও ছাওয়ালডার কথা মনে উঠলে আমার বাইচা থাকার ইচ্ছা হয় না।

নাজমা বেগম বলেন, আগুনে আমার সংসারটারে জালিয়া পুড়িয়া ছাড় খার কইরা দিছে। স্বামীকে কবর দিয়া পেটের দায়ে গাজীপুর চইলা আইছি। সংসারে দুইটা সন্তান আছে, ওরা গ্রামের বাড়িতে থাকে। প্রতি ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতাম, কিন্তু এবার আমাদের ঈদ নাই। বাড়িতে গিয়ে সন্তানদের হাতে দেয়ার মতো কিছুই নাই। এতিম অসহায় সন্তানদের নিয়ে আমি কিভাবে বাচমু। এসব কথা মনে উঠলে বুকটা ফাইটা যায়। হাসমত আলী বলেন, ভাই ভাবি (মাহিদুল নার্গিস দম্পত্তি) আগুনে পুড়ে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। বাসায় থাকতে খুবই কষ্ট হয়। ঈদে একসাথে বাড়ি যাইতাম, এখন আর তা যাওয়া হবে না। আমার পাশের রুমে সোলাইমান ও আগুনে পুড়ে মারা গেছে। সোলাইমানের স্ত্রী লাশ নিয়ে গ্রামে গেছে আর ফিরে নাই।

এলাকাবাসী জানান, দগ্ধদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার মনুষ। মহল্লার কলোনিতে হতাশা, নিরভ ও নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। অনেকেই স্বজন হারিয়ে ব্যাথা ও হতাশা নিয়ে চলে গেছেন গ্রামে। আবার কেউ কেউ জীবন জীবিকার আশায় থেকে গেছেন। আবার অনেকেই আপনজন দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন। দগ্ধ পরিবার গুলো অর্থাভাবে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গত ১৩ মার্চ কালিয়াকৈর তেলিরচালা এলাকায় রমজানের ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুনে ৩৬ জন দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে ৩২ জনকে ঢাকা মেডিকেলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইনষ্টিটিউটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৪

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com