বুধবার ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ভারতে পাচার হচ্ছে শিং মাছ, জানে না স্থানীয় প্রশাসন!

শাহ্ মো. আখতারুজ্জামান, ছাতক   |   মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   379 বার পঠিত

ভারতে পাচার হচ্ছে শিং মাছ, জানে না স্থানীয় প্রশাসন!

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি সীমান্ত পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ভারতে পাচার করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার দেশীয় শিং মাছ। ট্রাকের ড্রামে ভর্তি করে নিয়মিত মাছ পাচার করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনে নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে। আর দেশীয় শিং মাছ চোরাই পথে ভারতে পাচার হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে মাছের সংকটের পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির পক্ষ থেকে অভিযানের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। তবে মাছ পাচারের বিষয়ে থানা পুলিশ বলছে, বিষয়টি তাদের জানা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মদদেই ভারতে নিয়মিত পাচার হয়ে যাচ্ছে এসব দেশীয় মাছ, এমনই অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছাতকের সড়ক ব্যবহার করে সুরমা নদীর সেতু পাড়ি দিয়ে দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০/১৫টি ট্রাকের (পিকআপ) ড্রামের মাধ্যমে শিং মাছ অবৈধ ভাবে ভারতে পাচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিল ও চাষ করা এসব মাছের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা ভারতের স্থানীয় বাজারে। এসব দেশীয় মাছ ভারতে বিক্রি করে দামও ভালো পাওয়ায় পাচারের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ভারতে পাচার হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে শিং মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার বিক্রিতাদের অধিক মুনাফা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় সীমান্তবর্তী চোরাকারবারি একটি চক্র। ফলে উপজেলার গ্রামের স্থানীয় হাট-গুলোতে এসব মাছ পাওয়া গেলে দাম অনেক বেশী।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা রুস্তুম আলী, আনোয়ার হোসেন, জিহান মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এরা কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিং এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শিং মাছ ক্রয় করে প্রতি পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে প্রতি পিকআপে ৮শ’ থেকে এক হাজার শিং মাছ ড্রামে ভর্তি করে ছাতকের সুরমা সেতু দিয়ে পাড়ি দিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বাজারের কয়েকটি গলিতে নিয়ে মাছ গুলো হাউজে জমা করে রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাত ১০টার পর থেকে পিকআপ ভ্যানের ভেতরে বড় ড্রামে করে শিং বোঝাই করে বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। পিকআপ চালক দিলু মিয়া বলেন, প্রতি পিকআপে ৮শ’ থেকে এক হাজার কেজি শিং মাছ বাংলাবাজারের গোপন আড়তে মজুত করা হচ্ছে। এরপর মাছগুলো কই যায় তা আমার জানা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই বিকেলে ও সন্ধ্যার পর সুবিধাজনক সময়ে সেখান থেকে মাছগুলো পৌছানো হয় সীমান্তের বিভিন্ন জিরো পয়েন্টে। মাছ পাচারের কাজে সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া সংলগ্ন এপার-ওপার দুই পারের শ্রমিকরা এসব মাছ পাচার কাজে সংযোগিতা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানান, একটি পিকআপ ভর্তি মাছ ভারতে পাচারে কিছু সোর্সকে ১০ হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়, এরপরও প্রতি পিকআপ ভর্তি মাছে ১০/১২ হাজার টাকা মুনাফা হয়। স্থানীয় গ্রাম্য বাজারের হাটে শিং মাছের পাইকারি দর প্রতি কেজি দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকা। আর ভারতে পাচারের পর প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হয় আড়াই শত থেকে তিনশত রুপিতে। মাছ পাচারে সব খরচের পরও বেশ ভালো টাকা লাভ করা যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনসহ সকল রাস্তা ম্যানেজ করেই এসব মাছ ভারতে পাচার করা হচ্ছে। তবে যারা ভারতে মাছ পাচার করছেন, এবিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মাছ পাচারের বিষয়টি তারা সকলেই অস্বীকার করেছেন।

দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল হাসান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পিকআপ যোগে শিং মাছ ভারতে পাচারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মাছ পাচারের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রণজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে থানা পুলিশ সব-সময় তৎপর রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতে দেশীয় মাছ পাচারের বিষয়ে খবর নিয়ে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com