শুক্রবার ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

৪ জেলা ও ৪৩ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক   |   বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   50 বার পঠিত

৪ জেলা ও ৪৩ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয় সরকারের পদে থাকা ৪৮ জন পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে করতে ৪৩ জন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একজন সদস্য। স্থানীয় সরকার বিভাগ বুধবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ৪৭ জনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এছাড়া একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র বিবেচরাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পদত্যাগীদের মধ্যে ৮জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, সরকারের লাভজনক পদে থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া যায় না। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধির পদগুলো লাভজনক। ফলে পদত্যাগ না করে কারও পক্ষে ভোটে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মো. মাসুম পাটওয়ারী সাংবাদিকদের জানান, তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পদ শূন্য দেখিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান, অনেকে ইউএনও এবং ডিসির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কারণে সব পদত্যাগ পত্র তাদের কাছে এখনো এসে পৌঁছেনি। তাই এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

কুড়িগ্রামের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আধলী, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুশফিক হুসেন চৌধুরী এবং যশোর জেলা পরিষদের সদস্য মো. আজিজুল ইসলাম এর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পদ শূন্য দেখিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করার আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জাফর আলী কুড়িগ্রাম-২ আসনে, মতিয়ার রহমান লালমনিরহাট-৩ আসনে এবং মুশফিক হুসেন চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে ঢাকার ধামরাই উপজেলার মো. মোহাদ্দেছ হোসেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মহিউদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মুশফিকুর রহমান খান পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে সিরাজদিখানের মহিউদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এখান থেকে জয়ী হন বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী। গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার মো. কাবির মিয়া, রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মো. ইমদাদুল হক বিশ্বাস, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মো. সাইফুল ইসলাম খান বীরু, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. নাসিরুল ইসলাম খান, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মো. ইউনুস ইসলাম তালুকদার ও মির্জাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু পদত্যাগ করেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডর এস এম আল মামুন, সাতকানিয়ার আব্দুল মোতালেব, পটিয়ার মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এবং চন্দনাইশের মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে এস এম আল মামুন চট্টগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা, চাঁদপুর ও কক্সবাজারের দুইজন করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এরা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. আবুল কালাম আজাদ ও চৌদ্দগ্রামের আবদুস ছোবহান ভূঁইয়া; চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ও হাজিগঞ্জের গাজী মাঈনুদ্দিন এবং কক্সবাজারের মহেশখালীর মোহাম্মদ শরীফ বাদশা ও রামুর সোহেল সরওয়ার কাজল। পদত্যাগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ফিরোজুর রহমানও।

রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মো. শফিকুল ইসলাম ও বেলকুচির মো. নুরুল ইসলাম সাজেদুল এবং বগুড়ার শেরপুরের মজিবুর রহমান মজনু ও আদমদীঘির মো. সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও পাবনার চাটমোহরের মো. আব্দুল হামিদ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে উল্লাপাড়ার পদত্যাগী চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ও শেরপুরের মজিবুর রহমান মজনু বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

খুলনা বিভাগে মেহেরপুর সদর উপজেলার মো. ইয়ারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদরের মো. আসাদুজ্জামান বাবু ও শ্যামনগর উপজেলার এস এম আতাউল হক, কুষ্টিয়ার মিরপুরের মো. কামারুল আরেফিন পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে আসাদুজ্জামান বাবু এবার সাতক্ষীরা-২ আসনে এবং আতাউল হক সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জের শাল্লার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এ কে এম শফি আহমদ (সলমান) পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসূল আলমও পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রংপুর বিভাগে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মো. আলী আসলাম, নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. মোখলেছেদুল মোমিন, রংপুরের মিঠাপুকুরের মো. জাকির হোসেন সরকার ও গাইবান্ধার সদর উপজেলার শাহ সারোয়ার কবীর চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার মো. আব্দুল হাই আকন্দ, ঈশ্বরগঞ্জের মাহমুদ হাসান সুমন, শেরপুরের শ্রীবরদীর এ ডি এম শহিদুল ইসলাম ও ঝিনাইগাতীর এস এম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম এবং নেত্রকোণার দুর্গাপূর উপজেলার জান্নাতুল ফেরদৌসের পদত্যাগপদ্র গ্রহণ করে পদ শূন্য ঘোষণা করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শ্রীবরদীর এ ডি এম শহিদুল ইসলাম এবার শেরপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগর মনোনয়ন পেয়েছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মাসুম পাটোয়ারী জানান, যেসব উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্যানেল-১ এর দায়িত্ব আছেন তারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আর যেসব উপজেলায় প্যানেল করা নেই সেখানে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আর শূন্য ঘোষিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও কোন সদস্যকে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হবে। ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন করে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে সরকার চাইলে ওই জেলা বা উপজেলায় প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

ajkersangbad24.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
ফয়জুল আহমদ
যোগাযোগ

01712000420

fayzul.ahmed@gmail.com